বকেয়া কর আদায়ে এবার ওয়েভার স্কিম আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে বকেয়া করের ৪০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। বাকি ৬০ শতাংশ দিতে হবে গাড়ির মালিকদের। মঙ্গলবার বেসরকারি বাসমালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা জানান রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি বলেন, “ট্যাক্স, পারমিট, লাইসেন্স এই সব ফি-বাবদ প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বাসমালিকরা ছাড়ের আবেদন জানিয়েছেন। আমরাও ফিনান্সকে বলেছি, ৪০ শতাংশ রিবেট ছেড়ে দেওয়ার কথা। ওখান থেকে অ্যাপ্রুভাল হলে বকেয়া করের ৬০ শতাংশ গাড়ির মালিকদের দিতে হবে।”
অর্জুন বলেন, “বহু বাস এরকম আছে, বেআইনিভাবে রুটটা চেঞ্জ করে দেয়। আমরা বলেছি পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে। বাসমালিকরা বিষয়টা নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করেছিল। আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি।”
উল্লেখ্য, প্রায় সাড়ে তিন লক্ষের বেশি গাড়ির কর বকেয়া রয়েছে। যার পরিমাণ দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি। তাই পড়ে থাকা কর আদায়ে গত মাসের গোড়া থেকেই বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পরিবহণ দপ্তর। কিন্তু তাতে গাড়ির বকেয়া কর জমা দেওয়ার খুব একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না মালিকদের মধ্যে। এক মাসেরও বেশি সময়ে ১০০ কোটির কিছু বেশি টাকা জমা পড়েছে। অনেক গাড়ির মালিকই ওয়েভার স্কিমের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। অবশেষে সেই স্কিমই আসতে চলেছে। ফলে বকেয়া মেটাতে অনেকটাই ছাড় পাবেন গাড়ির মালিকরা। মঙ্গলবারের বৈঠকে ছিলেন পুলিশের আধিকারিকরাও। জরিমানার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।
একই সঙ্গে বেসরকারি বাস বে-আইনিভাবে রুট ভাঙলে সেই চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেন মন্ত্রী। অর্জুন বলেন, “বহু বাস এরকম আছে, বেআইনিভাবে রুটটা চেঞ্জ করে দেয়। আমরা বলেছি পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে। বাসমালিকরা বিষয়টা নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করেছিল। আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি।” একই সঙ্গে মন্ত্রী মঙ্গলবার জানান, টোটো দৌরাত্ম্য আগের থেকে অনেকটা কমেছে। পুলিশ একটু কড়া হয়েছে। টোটোর জন্য বেসরকারি বাস চলাচলে সমস্যা রয়েছে।
বৈঠকে বাসমালিকরা জানান, পুজোর সময় তাঁদের বাস ধরপাকড়ের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সারা বাংলা বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আলোচনা সদর্থক হয়েছে। ওয়েভার স্কিম আসবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাতে গাড়ির মালিকদের সুবিধা হবে।” সিটি সাবার্বান বাস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা বলেন, “আমরা আমাদের সমস্যার কথা মন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি তা সমাধানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।”
