দুবাইতে থাকা টুলু মণ্ডলকে বাংলায় ফেরাতে সচেষ্ট সরকার। প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী দুবাই থেকে সরকার টুলুকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে একথাই জানান সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা। প্রায় তিন মাস আগেই ছাড়েন দেশ। হাজার হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য থেকে বহু দূরে বিদেশের মাটিতে ঘাঁটি গেড়েছেন বীরভূমের পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডল। তাঁর পরিচিতদের সূত্রে দাবি, চলতি বছরের ২৩ মে দেশ ছাড়েন। প্রথমে তুরস্ক এবং পরে দুবাইয়ে আশ্রয় নেন বলে জানা যাচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ, এমনই দাবি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের। টুলু মণ্ডলের আইনজীবী জানান, টুলু মণ্ডল দশ বছরের গোল্ডেন ভিসা নিয়ে দুবাইতে রয়েছেন। জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানারও বিরোধিতা করেন তিনি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী মঙ্গলবার।
বলে রাখা ভালো, তৃণমূল আমলে পাথরের ডিসিআর (ডুপ্লিকেট চালান রিসিপ্ট) জালিয়াতি করেই টুলু মণ্ডলের রকেটের গতিতে উত্থান বলে জানা যায়! যদিও শুরুটা হয় এর আগে থেকেই। স্থানীয় সূত্রে খবর, বাম আমলে দিনমজুরির কাজে যারা নিয়মিত মহম্মদবাজারের পাথর খাদান এলাকায় আসত, তাদের মধ্যে টুলু সকলের থেকেই আলাদা ছিল, কারণ সে শিক্ষিত ছিল। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়েই দিনমজুরির কাজ করতে করতেই গাড়িতে পাথর চাপানোর ইজারা নেন টুলু। সেখান থেকে কিছুটা টাকা রোজগার করে ধাপে ধাপে কয়েকটি লরি কিনে নিজেই হাত পাকান পাথর পরিবহণের ব্যবসায়। ধীরে ধীরে আর্থিক স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি।
দ্বিতীয় ধাপে রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলের জেলা ও রাজ্য স্তরের নেতারা বুঝতে পারেন, মহম্মদবাজারে মাটির তলায় পাথরের নয় বরং টাকার খনি রয়েছে। সেখান থেকে বিপুল রোজগার করা সম্ভব। স্বাভাবিকভাবেই এই এলাকার উপর নজর পড়ে নেতাদের, আর আবারও নিজের শিক্ষিত মাথাকে কাজে লাগিয়ে নেতাদের সঙ্গে পাথর ব্যবসায়ীদের সখ্যতার নিরিখে প্রথম স্থানে চলে আসেন টুলু মণ্ডল। এতে টুলুর উত্থানের পথ আরও প্রশস্ত হয়। তবে ২০১৬ সালে অনুব্রত মণ্ডলের স্নেহধন্য হওয়ার সুবাদে ডিসিআরের টোল গেট পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। শুরুতে বাড়ির এলাকা সোঁতশাল টোলগেটের। পরে ওই এলাকার আরও ছ’টি টোলগেটের। সেখান থেকেই তাঁর ফুলেফেঁপে ওঠা।
Source: Sangbad Pratidin India (Bengali)
