Hashtagintro

গ্রানাইট হাবের বদলে পাথর ক্রাশার! পুরুলিয়ায় চন্ডী পাহাড় বাঁচাতে ফের পথে জনতা

হয়নি গ্রানাইট হাব। তার বদলে হয়েছে পাথর ক্রাশার! আর তাই প্রতিদিন মেশিনের ঘায়ে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের বেড়োর চণ্ডী পাহাড় এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যাচ্ছে। কাটা পড়ছে একের পর এক টিলা। অথচ ওই পাথর ক্রাশারের কোনও অনুমতি নেই। স্থানীয় বেড়ো পঞ্চায়েত কোন নো অবজেকশন সার্টিফিকেটও দেয়নি। তাহলে কীভাবে চণ্ডী পাহাড় এলাকায় গজিয়ে উঠলো একের পর এক ক্রাশার? চণ্ডী পাহাড় বাঁচাতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করা মানুষজন এই প্রশ্নের উত্তর প্রশাসনের কাছে চাইলেও জবাব মেলেনি। আর তাই পাহাড় বাঁচাতে আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। পথে নেমেছেন জনতা।

 

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় একটি সামাজিক কর্মসূচি ও এই জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করে তিনি বলেছিলেন, কোথাও কোনও পাহাড় কাটা হবে না। গাছ কাটা হবে না। পাহাড়, গাছে কেউ হাত দেবেন না। কোনও নিলাম হবে না। কিন্তু পুরনো প্রকল্পগুলির কী হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি তরফে আদেশনামা আসেনি। যদিও পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো জানিয়েছেন, সমস্ত পাহাড় কাটা বন্ধ থাকবে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে বেড়োর চণ্ডী পাহাড় কাটা চলছেই। গ্রানাইট হাবের বদলে যেভাবে পাথর ক্রাশার হয়েছে তাতে ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। চণ্ডী পাহাড় সংলগ্ন এলাকা পুরাতন বেড়ো থেকে এদিন বিশাল মিছিল করেন এলাকার মানুষজন।

শুধু পাথর কাটা নয়। ওই পাথর পরিবহণের জন্য গ্রামের রাস্তাও দফারফা হয়ে গিয়েছে। এদিনের এই মিছিলে এলাকার মানুষজন ছাড়াও ওই এলাকার বিজেপি নেতা-কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। এই আন্দোলনে শামিল হওয়া মিঠুন বাউরি, বিক্রম বাউরি বলেন, বিবেক তন্তুবায় বলেন, ‘‘পাহাড় কাটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এখানে গ্রানাইট হাব হওয়ার ছিল। তা না হয়ে পাথর ক্রাশার হয়েছে। সেই কারণেই আমাদের আন্দোলন জোরদার চলছে।”

২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে তৃণমূলের জমানায় রঘুনাথপুর ১ ব্লকের বেড়ো, খাজুরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গ্রানাইট হাবের অনুমোদন দেয় বিগত সরকার। তারপর থেকেই পাহাড় কাটার প্রতিবাদে ওই এলাকায় আন্দোলন শুরু করেন গ্রামের মানুষ। কিন্তু ওই পাহাড় কাটা বন্ধ হয়নি। নতুন সরকারের কাছে এলাকার মানুষের আশা, এবার আক্ষরিক অর্থেই পাহাড় কাটা বন্ধ হবে। সেই অপেক্ষায় যেন দিন গুনছেন এলাকার বাসিন্দারা। বেড়ো গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান টিকা বাউরি বলেন, ‘‘ওই পাথর ক্রাশারের জন্য কেউ কোন অনুমতি নেয়নি। পাথর ক্রাশার গড়তে গেলে স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে এনওসি নিতে হয়।”

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language