Hashtagintro

চুঁচুড়ার মণ্ডপের বাঁশে ডিম আগলে ঘুঘু, অর্ণবের দাপট সামলে জন্ম নিল ছানা

দুর্গা মণ্ডপের মধ্যেই বাসা বেধেছিল ঘুঘু পাখি। পেড়েছিল ডিমও। তাই পুজো শেষের পরেও তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে মণ্ডপ না খোলার সিদ্ধান্ত নেন পুজো কমিটির সদস্যরা। চুঁচুড়ার সুকান্তনগরের সুকান্ত স্মৃতি সংঙ্ঘের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন নেটিজেনরা। এবার সেই বাসায় ঘুঘুর ডিম ফুঁটে জন্ম নিল ছানা। পাখির ছানা বড় হয়ে উড়তে শেখা পর্যন্ত মণ্ডপ না খোলার সিদ্ধান্ত নেন ক্লাবের সদস্যরা। পাখি ও তার ছানার নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এবার ৫৩ বছরে পা দিয়েছে চুঁচুড়ার সুকান্তনগরের সুকান্ত স্মৃতি সঙ্ঘের দুর্গাপুজো। এবছর তাঁদের ছিল ভাবনা সাঁচি স্তূপ। পুজোর প্রায় ১৫ দিন আগেই বাঁশের কাঠামোয় বাসা বাঁধতে শুরু করে একটি ঘুঘু পাখি। ত্রিপল টাঙানোর সময় পুজোর উদ্যোক্তাদের চোখে পড়ে বিষয়টি। তাই তাঁরা সেই সময় বাসার উপরে ত্রিপলের বদলে একটি পাতলা কাপড় টাঙানোর সিদ্ধান্ত নেন। এভাবেই কাটে পুজো। পুজো শেষ হলেও ঘুঘু পাঠির বাসা প্যান্ডেলের সিলিংয়েই রয়ে গিয়েছে। সেখানে ডিম আগলে এতদিন বসেছিল পাখিটি। তাই পুজো মিটলেও মণ্ডল খোলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন পুজো কমিটির সদস্যরা। সম্প্রতি ডিম ফুটে ছানাও হয়েছে। তবে সদ্যোজাত একটি ছানা এখনও উড়তে পারে না। ছানা উড়তে না পারা পর্যন্ত মণ্ডপ না খোলার সিদ্ধান্ত নেন ক্লাবের সদস্যরা।

এরই মধ্যে পেরিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঝড়বৃষ্টির দাপট সামলেও নিজের বাসা আগলে বসেছিল ঘুঘু পাখি। তবে ঠিক কবে ছানার জন্ম হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না পুজো উদ্যোক্তারা। ক্লাবের সদস্যরা জানাচ্ছেন, দুটি ঘুঘু পাখি দুটি করে মোট ৪টি ডিম পেড়েছিল। একটি ঘুঘু নিজের ছানাকে নিয়ে উড়ে গিয়েছে। অন্য পাখিটি এখনও নিজের ছানা আগলে বসে আছে। সেই ছানার গায়ে পালক গজাতে শুরু করেছে। কিছুদিনের মধ্যেই এই পাখিটিও নিজের ছানাকে নিয়ে উড়ে যাবে বলে আশা করছেন পুজো উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটির সদস্য মনোজ মণ্ডল বলেন, “ওদেরও বাঁচার অধিকার রয়েছে। তারা উড়তে না শেখা পর্যন্ত মণ্ডপ খুলব না।”

মণ্ডপটি জিটি রোডের পাশেই। তাই আপাতত মণ্ডপের সামনের রাস্তার দিকের কিছুটা অংশ খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে মণ্ডপের ছাদ এখনই খোলা হয়নি। ঘুঘুর ওই ছানাটি উড়তে শেখার পরেই মণ্ডপ খোলার কাজ শুরু হবে। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের ব্যান্ডেল-মগরা বিজ্ঞান কেন্দ্র। কেন্দ্রের সম্পাদক সন্দীপ সিং বলেন, পুজো কমিটির সদস্যরা শুধু মানবিক নন, পশুপাখির প্রতিও যত্নবান। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধরনের চেতনা ছড়িয়ে পড়া অত্যন্ত ইতিবাচক।

Source: Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language