Hashtagintro

চুমচেত এলাকায় ভূমিধসে অবরুদ্ধ বুধি গণ্ডকী নদী, তাতেই কি নতুন করে ভাসল নেপাল?

ভোটেকোশি বন্যার ঠিক এক মাস পরই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে নেপাল। রবিবার ভোরে বুধি গণ্ডকী নদীর বিধ্বংসী হড়পা বান গোর্খা জেলার চুম্নুব্রি, ধারছে এবং এর আশেপাশের জনপদগুলো বিধ্বস্ত হয়েছে। বাসিন্দারা অন্ধকারে উঁচু স্থানের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ১০ জন নিখোঁজ। ৬ জনকে উদ্ধার করেছে নেপাল সেনাবাহিনী। পাইয়ু ও বাগার গ্রামের ৩৫টি ঘরবাড়ি জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। এছাড়াও দোভান, ঘাট্টিখোলা, জগত, সাল্লেরি এবং মাছিখোলা বাজারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। হড়পা বানে আরুঘাট পুরসভার ২ এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড সংযোগকারী সোতির লোহার সেতু এবং কেরাউজাগামী একটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে বিস্তীর্ণ এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এই দুর্যোগে চুম নুব্রি-৩-এর সাল্লেরিতে নির্মাণাধীন ৩৪১ মেগাওয়াট ক্ষমতার বুধি গণ্ডকী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ছাড়াই কেন এমন ভয়ঙ্কর বিপর্যয়? তার কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিআরআরএমএ)। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এটা ‘ল্যান্ডস্লাইড ডাম আউটব্রাস্ট ফ্লাড’। এমন ধারণার কারণ, স্যাটেলাইট চিত্রে গোর্খা জেলার চুমচেত এলাকার কাছে একটি বড় ধরনের ভূমিধসের দৃশ্য ধরা পড়েছে।

বেশিরভাগ গবেষক মনে করছেন, ভূমিধসের ফলে পাথর, মাটি ও ধ্বংসস্তূপ নদীর গতিপথে এসে পড়ে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি করে। এর ফলে জল জমে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়। জলের চাপে বাঁধ ভেঙে পড়লে হড়পা বানের সৃষ্টি হয়।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু সংলগ্ন এলাকায় বুধি গণ্ডকী নদী ত্রিশূলী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, নদীর জলস্তর সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ৩.৬৬ মিটার থেকে বেড়ে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ৮.৪৩ মিটারে পৌঁছায়। সেটা ৫ মিটারের বিপদসীমার অনেক উপরে ছিল। সবচেয়ে বড় বিষয় বৃষ্টিপাতের জন্য এই হড়পা বান হয়নি। প্রাথমিক তথ্য ও উপগ্রহ চিত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে, নদীর প্রবাহ কোনও কারণে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। জমা জলের বাড়তি চাপে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বিধ্বংসী হড়পা বান হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে ভূমিধসের বিষয়টি রয়েছে।

নেপালে নতুন করে ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।

জানা গিয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্রে গোর্খা জেলার চুমচেত এলাকার কাছে একটি বড় ধরনের ভূমিধসের দৃশ্য ধরা পড়েছে। সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখার পরিণত ‘নেপালস ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’ কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ বুড়ি গণ্ডকী নদীর একটি উপনদীর প্রবাহ আটকে দিয়েছিল। ফলে সেখানে সাময়িকভাবে জল জমে যায়। পরবর্তীতে বাঁধ ভেঙে পড়লে জমে থাকা বিপুল জলরাশি তীব্র বেগে নিচের দিকে ঝাপিয়ে পড়ে। তবে এনডিআরআরএমএ এখনও নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। তুষারধসের (অ্যাভাল্যাঞ্চ) ঘটনা ঘটে থাকতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও সেটা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তবে বেশিরভাগ গবেষক মনে করছেন, ভূমিধসের ফলে পাথর, মাটি ও ধ্বংসস্তূপ নদীর গতিপথে এসে পড়ে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি করে। এর ফলে জল জমে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়। জলের চাপে বাঁধ ভেঙে পড়লে হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। যার পোশাকি নাম ‘ল্যান্ডস্লাইড ডাম আউটব্রাস্ট ফ্লাড’। এই ধরনের বন্যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ সরু পাহাড়ি উপত্যকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সেটাই রবিবার হয়েছে।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language