জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে জলে পড়ে গিয়েছিল ছেলে। সন্তানকে উদ্ধার করে গিয়ে জলে ভেসে যান মা! ঝাড়গ্রামের ঘাগরায় ওই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। উদ্ধারকাজ চললেও এদিন দুপুর পর্যন্ত প্রীতি দত্তের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরমধ্যেই ফের দুর্ঘটনা ঝাড়গ্রামে। তিন বন্ধু মিলে ছুটির দিনে পুকুরে স্নান করতে নেমেছিলেন। আচমকাই পা পিছলে গভীর জলে তলিয়ে যায় দু’জন। তাঁদের বাঁচাতে সাঁতার কেটে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তৃতীয় বন্ধু। আপ্রাণ চেষ্টা করেও দুই বন্ধুকে উদ্ধার করতে পারেননি। কোনও রকমে নিজে পাড়ে উঠে স্থানীয়দের সাহায্য চান তিনি। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুকুর থেকে উদ্ধার হয় দুই বন্ধুর নিথর দেহ। রবিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে ঝাড়গ্রামে।
কৃষ্ণেন্দু সিনহা বলেন, “আমরা তিন বন্ধু একসঙ্গে পুকুরে স্নান করতে এসেছিলাম। পুকুরে নামার সময় আমাদের পা ফসকে জলের ভিতরে চলে যায়। আমি সাঁতার জানি। ওদের ওঠানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি। পরে উঠে এসে চিৎকার করলে কিছু মানুষ এখানে এসে ওদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে আমি নিজেই পুলিশকে ফোন করি।”
মৃত দুই তরুণের নাম কুমারেশ দাস এবং সোমরাজ দে। একজনের বাড়ি রঘুনাথপুরে। এবং আরেকজনের বাড়ি জামদা এলাকায়। দু’জনেরই বয়স ১৯ বছর। তাঁদের বন্ধু কৃষ্ণেন্দু সিনহাও ১৯ বছরে। রাধানগর এলাকার বাসিন্দা। তিনজনই একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের পড়ুয়া। তাঁদের বন্ধুত্ব এতটাই যে স্থানীয়দের কাছে ‘থ্রি মাসকেটিয়ার্স’ নামে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছুটির দিনে মাঝেমধ্যেই তিন বন্ধু বাইক নিয়ে ঘুরতে বেরোতেন। সেই মতো রবিবারও তিন জন ঝাড়গ্রাম শহরের অদূরে জারালাটা এলাকার একটি পুকুরে স্নান করতে যান। এর আগেও ওই পুকুরে এসেছিলি তাঁরা। তিন বন্ধুর মধ্যে একমাত্র কৃষ্ণেন্দুই সাঁতার জানত। এদিন পুকুরে নেমে কিছুটা ভিতরের দিকে চলে যাওয়ার পর আচমকাই পা পিছলে যায় কুমারেশ ও সোমরাজের। গভীর জলে তলিয়ে যেতে থাকেন তাঁরা। বিপদ বুঝে তাঁদের উদ্ধারের জন্য জলে নামে কৃষ্ণেন্দু। কিন্তু দু’জনকে টেনে তুলতে পারেননি। পরে কোনও রকমে সাঁতার কেটে পাড়ে উঠে এসে চিৎকার করে স্থানীয়দের সাহায্য চায়। পাশাপাশি পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পুকুর থেকে কুমারেশ ও সোমরাজের দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ দেহ দু’টি উদ্ধার করে ইতিমধ্যে ঝাড়গ্রাম হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কৃষ্ণেন্দু সিনহা বলেন, “আমরা তিন বন্ধু একসঙ্গে পুকুরে স্নান করতে এসেছিলাম। পুকুরে নামার সময় দুজনের পা ফসকে জলের ভিতরে চলে যায়। আমি সাঁতার জানি। ওদের ওঠানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি। পরে উঠে এসে চিৎকার করলে কিছু মানুষ এখানে এসে ওদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে আমি নিজেই পুলিশকে ফোন করি।” সোমরাজের বাবা রাজেশ দে বলেন, “আমি রোজ সকালে ব্যবসার জন্য বেরিয়ে যাই। এদিনও গিয়েছিলাম। দুপুরে ভাত খাওয়ার সময় ওর বন্ধুরা এসে খবর দেয়। খবর পেয়ে এখানে এসে দেখি, ছেলে জলে তলিয়ে গিয়েছে।”