Hashtagintro

ছোট আঙাড়িয়ার বড় ‘জুজু’ আজও তাড়া করে বামেদের! কী বলছেন সুশান্ত, সুজনরা?

‘ছোট আঙাড়িয়া গণহত্যা ফাইলস’ খোলা হবে। গড়বেতার সভামঞ্চ থেকে এই হুঙ্কার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় সিপিএম পার্টি অফিস থেকেই বন্দুক গিয়েছিল, বলেও অভিযোগ। সেই প্রসঙ্গ টেনে নন্দীগ্রামে ‘অপারেশন সূর্যোদয়’-এর ফাইল খোলা হবে। সেই বার্তাও শুভেন্দু অধিকারী দিয়েছেন। তাহলে কি এবার সিপিএম জমানার একাধিক ‘গণহত্যা’, ‘হিংসা’র তদন্ত নতুন করে শুরু হবে? সেই চর্চা দেখা দিয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। তাহলে কি আড়াই দশকের পুরনো ছোট আঙাড়িয়ার ‘জুজু’ নতুন করে তাড়া করবে বামেদের? সেই চর্চা শুরু হয়েছে। এই বিষয় নিয়ে পালটা কী বলল সিপিএম?

ছোট আঙাড়িয়া কাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল সিপিএমের সেইসময়ের দাপুটে নেতা সুশান্ত ঘোষের। ওই হত্যাকাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল গড়বেতার সিপিএম নেতা তপন ঘোষ, সুকুর ঘোষ। তাহলে কি নতুন করে তদন্ত হলে ফের পুলিশি জেরার মুখোমুখি হতে হবে সিপিএম নেতাদের? এই বিষয়ে পালটা মন্তব্য করেছেন সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, “মামলা হয়ে বিচার হয়ে গিয়েছে। এখন আর নতুন করে ফাইল খুলে মুখ্যমন্ত্রী কী করবেন? তিনি আরও বলেন, “এটা নিয়ে হাইকোর্টে ১৫ বছর ধরে একটা মামলা চলছে। হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়ে রেখেছে। আগের সরকারের আইনজীবীরা হাজির হতেন না বলে এখনও বিচারাধীন হয়ে রয়েছে।” 

২০০১ সালের ৪ জানুয়ারি গড়বেতার ছোট আঙারিয়া গ্রামে তৃণমূল কর্মী বক্তার মণ্ডলের বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছিল। সেই ঘটনার পর পাঁচজন তৃণমূল কর্মী নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন! তৃণমূল কর্মীদের সিপিএম পুড়িয়ে মেরেছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

২০০১ সালের ৪ জানুয়ারি গড়বেতার ছোট আঙারিয়া গ্রামে তৃণমূল কর্মী বক্তার মণ্ডলের বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছিল। সেই ঘটনার পর পাঁচজন তৃণমূল কর্মী নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন! তৃণমূল কর্মীদের সিপিএম পুড়িয়ে মেরেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় সুশান্ত ঘোষ, তপন ও সুকুরের নাম অভিযুক্ত হিসেবে উঠেছিল। ঘটনার তদন্তও হয়েছিল। একাধিক গ্রেপ্তারিও হয়েছিল। ২০০৯ সালে সাক্ষীর অভাবে আদালত অভিযুক্তদের খালাস করে দিয়েছিল।

রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। মেদিনীপুর কঙ্কালকাণ্ডেও সুশান্ত ঘোষ ধারাবাহিক জেরার মুখে পড়েছেন। নয়া বিজেপি সরকারের আমলেও তাঁর বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছে বলে খবর। এদিন সুশান্ত বলেন, “নতুন সরকার এসে ইতিমধ্যেই আমার বিরুদ্ধে একটি কেস দিয়েছে জামিন অযোগ্য ধারায়। সেটাতে আগাম জামিন নিয়েছি। শর্ত দেওয়া রয়েছে প্রতি সপ্তাহে চন্দ্রকোনা রোড থানায় হাজিরা দিতে হবে। এই মামলায় আমি ছাড়াও শতরূপ ঘোষ ও জেলা সম্পাদক বিজয় পালকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।” 

সুশান্ত ঘোষের পালটা বক্তব্য, “মামলা হয়ে বিচার হয়ে গিয়েছে। এখন আর নতুন করে ফাইল খুলে মুখ্যমন্ত্রী কী করবেন? এটা নিয়ে হাইকোর্টে ১৫ বছর ধরে একটা মামলা চলছে। হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়ে রেখেছে।”

এদিন গড়বেতায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ছোট আঙারিয়া থেকে শুরু করে নন্দীগ্রাম, যারা গড়বেতা থেকে বন্দুক নিয়ে রক্তাক্ত সূর্যোদয় করতে গিয়েছিল, সেই মামলা আমি রিওপেন করব। নন্দীগ্রামের সূর্যোদয় মামলা আমি রিওপেন’ করব।” সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমকেও এদিন নিশানা করেছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “মহম্মদ সেলিম আপনার এত সাহস। আপনি বলেছিলেন, বিজেপি এসেছে সিপিএমকে আক্রমণ করতে। জনগণ প্রতিরোধ করেছে। আমি আজকে বলে গেলাম, ছোট আঙারিয়া থেকে শুরু করে ২০০৭-এ নন্দীগ্রামে, গড়বেতায় যে সিপিএম পার্টি অফিস ছিল, সেখান থেকে যারা যারা বন্দুক নিয়ে নন্দীগ্রামে রক্তাক্ত সূর্যোদয় করতে গিয়েছিল, তাঁদের কেস আমি রিওপেন করব। একটাকেও ছাড়া হবে না।”

এই বিষয়ে সব ফাইল খোলার কথা জানিয়েছে চ্যালেঞ্জ করেছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। সুজনের কথায়, “যত ফাইল আছে সব খুলুন। এমন কী পারলে কিষেণজিকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল? সেই ফাইলটাও খুলবেন।” তাঁর আরও বক্তব্য, “আপনি তৃণমূলে থাকাকালীন বলেছিলেন, রাজ্যের কোথাও লাল পতাকার নিশান থাকবে না। এই গড়বেতায় দাঁড়িয়েই বলেছিলেন। এখন তো বুঝতে পারছেন লাল পতাকা উড়ছে। আর আপনার তৃণমূলের পতাকাটা দেখা যাচ্ছে না। আবারও বলছি সব মামলা ওপেন করুন। আমরা বুঝে নেব।”

Source: Sangbad Pratidin Education (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Education (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language