Hashtagintro

টাকার লোভে শিশুর অস্ত্রোপচার! ভুয়ো চিকিৎসক সাইদুলের বিরুদ্ধে এবার যুক্ত খুনের ধারা

ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন নিয়ে চুটিয়ে শল্য চিকিৎসক হিসাবে পসার জমিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি  ফাইমোসিস অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পর্দা ফাঁস হয়ে যায় ভুয়ো চিকিৎসক শেখ সাইদুলের। মঙ্গলবার পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন তিনি। এবার তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলার ধারা যুক্ত করল পুলিশ। পুলিশের দাবি, চিকিৎসক না হয়েও তিনি টাকার লোভে অস্ত্রোপচার করেছিলেন। তাই খুনের ধারা যোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিল্লি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন সাইদুল। বুধবার ভোরে তাঁকে বর্ধমানে আনা হয়। এদিনই তাঁকে বর্ধমান আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাঁকে ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

সাইদুলের ভুয়ো কীর্তিকলাপ প্রকাশ্যে আসে সেপ্টেম্বরস মাসের গোড়ার দিকে। বর্ধমানের নবাবহাট এলাকায় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ফাইমোসিস অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে মৃত্যু হয় এক শিশুর। ঘটনায় শিশুর পরিবারের তরফে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ করা হয়। ওই শিশুর মা শিল্পা রায়কে ফোনে হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্তে নামে বর্ধমান থানার পুলিশ। পাশাপাশি স্বাস্থ্যদপ্তরও তদন্ত শুরু করে। তাতেই প্রকাশ্যে আসে, অস্ত্রোপচার করা শেখ সাইদুল আদৌ চিকিৎসক নন, তিনি ভুয়ো ডিগ্রিধারী। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। অবশেষে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার পরেই দুবাই পালিয়ে গিয়েছিলেন সাইদুল। কিন্তু স্ত্রী অলিভিয়া হোসেনের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইলে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। দু’জনে দুবাইতে পাকাপাকিভাবে বসবাস করারও পরিকল্পনা করেছিলেন। স্বামীর সঙ্গে দুবাইবাসী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সাইদুলের স্ত্রী মঙ্গলবার দিল্লি পৌঁছন। অন্যদিকে, সাইদুল তাঁকে নিতে দুবাই থেকে বিমানে দিল্লি আসে। দিল্লি বিমানবন্দরে নামতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিন আদালতে চত্বরে সাইদুল সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলেননি। তাঁর বাবা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী শেখ আক্তার আলি বলেন, “হাজার হোক ছেলে তো। বাবা হয়ে তো দেখতে পারবো না ওর ফাঁসি হচ্ছে। তাই আইনের সাহায্য নিয়েছি। বিচার হোক, ওর সত্যিই কোন ভুল ছিল কি না।” যদিও ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তিনি দাবি করেছিলেন, ছেলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। সাইদুলের স্ত্রী অলভিয়া বলেন, “আমার কিছু বলার নেই। সময় কথা বলবে।” গোটা ঘটনায় মুখ খুলেছেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। বলেন, “বিগত ১৫ বছরে শুধু ভুয়ো শিক্ষক, ভুয়ো ডাক্তার, ভুয়ো পুলিশ, ভুয়ো ইঞ্জিনিয়ার এসব তৈরি হয়েছে। এদের যেন চূড়ান্ত শাস্তি হয়। এই প্রশাসন অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করবে না।”

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language