সোশাল মিডিয়ায় পরিচয় থেকে বিয়ে। তবে বছর ঘোরার আগেই ভয়ংকর কাণ্ড। বিচ্ছেদে নারাজ স্ত্রীর গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে বিহারের মুজফফরপুরে। ২১ বছর বয়সি দামিনী কুমারীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রবিবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সঞ্জয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের তরফে জানা যাচ্ছে, বছর দু’য়েক আগে ইনস্টাগ্রামে দামিনীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল সুপৌলের বাসিন্দা সঞ্জীব শাহর। ৯ মাস আগে বিয়ে হয় তাঁদের। বিয়ের পর থেকে অশান্তি চলছিল এই দম্পতির মধ্যে। এই অবস্থায় দামিনীর বিরুদ্ধে ডিভোর্স মামলা দায়ের করেন সঞ্জীব। ডিভোর্সের কাগজে সই করতে রাজি হননি দামিনী। অভিযোগ, সেই রাগেই এই স্ত্রীকে খুনের ছক কষে অভিযুক্ত।
সঞ্জীবের বয়ান অনুযায়ী, শনিবার রাতে তিনি দামিনীকে নিয়ে কোসী বাঁধের দিকে যান। রাস্তার পাশের দোকান থেকে বোতলে পেট্রোল কেনেন। দামিনীর ব্যাগেই রাখা হয় সেই পেট্রল। রাত ১০টা নাগাদ লালমনপাট্টির কাছে একটি খালের ধারে নির্জন জায়গায় দামিনীকে সঙ্গে নিয়ে যান অভিযুক্ত। সেখানেই তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে দেশলাই জ্বেলে পালায় সঞ্জীব। জ্বলন্ত শরীরে মহিলাকে ছুটতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন। তড়িঘড়ি দামিনীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দাহ্য পদার্থের নমুনা সংগ্রহ করার পাশাপাশি সঞ্জীবকে গ্রেফতার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর বাবা কিনু সাহকেও আটক করা হয়েছে। দামিনীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সিনিয়র অফিসার পবন কুমার।
