Hashtagintro

ড্রোন ঠেকাবে মাছ ধরার জাল! ‘টিটিপি’র মার থেকে বাঁচতে আজব দাওয়াই সেনাপ্রধান মুনিরের

আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের অন্যতম মাথাব্যাথা এখন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাক সেনার ক্যাম্প লক্ষ্য করে লাগাতার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে এই জঙ্গিগোষ্ঠী। এই পরিস্থিতিতে টিটিপির মার থেকে বাঁচতে পাক সেনার নতুন অস্ত্র হয়ে উঠল মাছ ধরার জাল। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় টিটিপির হামলা থেকে বাঁচতে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নির্দেশে সেনার চেকপোস্টগুলির ছাদে ও চারপাশে মাছ ধরার জাল টাঙানো হচ্ছে।

গত ১৬ এপ্রিল আফগান সীমান্ত থেকে ৩০ কিমি দূরে হাঙ্গু জেলার সারকি পিয়ালা পুলিশ চেকপোস্টে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় একজনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হন আরও অনেকে। চলতি বছরে এই অঞ্চলে অন্তত ১৬ বার হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে সেনা ব্যারাক থেকে বাইরে বেরতে ভয় পাচ্ছেন জওয়ানরা। এই অবস্থায় শত্রু পক্ষের ড্রোন হামলা থেকে বাঁচতে মুনিরের নির্দেশে সেনা ক্যাম্পে মাছ ধরার জাল বেছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাক সেনার যুক্তি ড্রোন চেকপোস্টের উপর এলে ড্রোনের প্রপেলার জালে আটকে যাবে এবং বিস্ফোরণের আগেই তা নিষ্ক্রিয় হবে।

পুলিশ আধিকারিক ফায়াজ খান সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “জালে না আটকালেও, জালের উপর বিস্ফোরণ হলে ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ অনেক কম হবে।”

পুলিশ আধিকারিক ফায়াজ খান সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “জালে না আটকালেও, জালের উপর বিস্ফোরণ হলে ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ অনেক কম হবে।” যদিও রিপোর্ট বলছে, মূল সমস্যাটা আসলে আর্থিক। একটি চেকপোস্ট পুরো জাল দিয়ে ঢাকতে খরচ পড়বে মাত্র ১৪০০ ডলার অর্থাৎ ১.৩০ লক্ষ টাকা। সেখানে যদি অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম কিনতে হয় সেক্ষেত্রে খরচ পড়বে ৫০০০ থেকে ৫০ লক্ষ ডলার পর্যন্ত। ফলে সস্তায় ঝুঁকেছে পাক সেনা। ইতিমধ্যেই কোহাত, কারাক, বান্নু, লাক্কি মারওয়াত এবং ডেরা ইসমাইল খান, এই পাঁচ জেলার সামরিক ফাঁড়িতে এই জাল লাগানো হয়েছে।

তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই সস্তা কৌশলে কাজের কাজ কিছুই হওয়ার নয়, তবে এটা ঠিক যে ক্যাম্পে থাকা জওয়ানরা মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তিতে থাকবেন। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের ইমতিয়াজ গুল বলেন, “এর ফলে কিছুটা ভুয়ো নিরাপত্তার অনুভূতি পাবেন জওয়ানরা। ড্রোন সবসময় থানাকে টার্গেট করে না, বড় জায়গায় হামলা করে আতঙ্ক ছড়ানোই আসলে টিটিপির উদ্দেশ্য।” ড্রোন হামলা থেকে বাঁচতে এতদিন পাকিস্তানের ভরসা ছিল চিন ও তুরস্কের অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম। কিন্তু গত বছর অপারেশন সিঁদুরে এই ড্রোনের দুর্বলতা সামনে আসার পর এখন মার্কিন সংস্থা থেকে এই সিস্টেম কিনছে ইসলামাবাদ।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language