Hashtagintro

তৃণমূলের ভুল শুধরে লক্ষ্মীবারে লগ্নি-নীতি, শিল্পায়নে উদারপথে রাজ্য

জমি ফেলে রাখলেই কড়া ব‌্যবস্থা, অধিগ্রহণের বাধা কাটাতে সরকারই মূল সহায়, বড় লগ্নিতে ইনসেনটিভ। লগ্নিকারীদের ইতিবাচক ত্রিমুখী বার্তা দিয়ে লক্ষ্মীবারে রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা হতে চলেছে নবান্নে। যার দিকে তাকিয়ে রয়েছে বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পমহল। রাজ্যে লগ্নির ক্ষেত্রে দরজা খোলার ভিত হবে এই নীতি।

বছর দুয়েক আগে আইন এনে শিল্পে যে ইনসেনটিভ পলিসি তৃণমূল সরকার বাতিল করেছিল তা ফিরিয়ে যেমন বৃহৎ লগ্নিকারীদের বার্তা দেওয়া হবে, তেমনই রাজ্যের বিভিন্ন পুরনো ঘরোয়া শিল্প যেন পুনরুজ্জীবিত হয়, তাও স্পষ্ট করা হবে। তবে শিল্পনীতির পরই জমিনীতি ঘোষণার পথে হাঁটবে সরকার। যার কাজ করছে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তকে মাথায় রেখে গড়া মন্ত্রীগোষ্ঠী। প্রাথমিক খসড়াও প্রস্তুত। 

সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের মতো বলপ্রয়োগ করে জমি অধিগ্রহণের বদলে বাজারমূল্যে জমির মালিকদের কাছ থেকে সরাসরি জমি কেনার পক্ষে বর্তমান বিজেপি সরকার। যা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন মুখ‌্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের মতো বলপ্রয়োগ করে জমি অধিগ্রহণের বদলে বাজারমূল্যে জমির মালিকদের কাছ থেকে সরাসরি জমি কেনার পক্ষে বর্তমান বিজেপি সরকার। যা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন মুখ‌্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যে নীতিতে এই রাজ্যে ইতিমধ্যেই সীমান্তে বিএসএফ জমি পেয়েছে, রেল ও বিমানবন্দরের জন‌্যও জমির সমস‌্যা মিটিয়ে ফেলা হয়েছে, সেই পথ ধরেই শিল্পের সংকটও মেটাবে রাজ‌্য। ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে আনা হচ্ছে আমূল পরিবর্তন। গ্রামীণ এলাকায় কৃষিজমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে তার উৎপাদন ক্ষমতা দেখে বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি (সর্বোচ্চ ২.৫ গুণ পর্যন্ত হতে পারে) টাকা মালিকের হাতে এককালীন তুলে দেওয়ার ভাবনা রয়েছে সরকারের। যাতে কৃষির উপর নির্ভরশীল পরিবার আর্থিক স্বাচ্ছন্দের মুখ দেখে। তবে জমিনীতির আগে শিল্পনীতিতে অনেক সংস্কার আনা হচ্ছে। 

তৃণমূল সরকারের শেষদিকে বিনিয়োগকারীরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইনসেনটিভ পাননি। এই বকেয়ার অঙ্ক এখন প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। তা ফেরাতে চায় বিজেপি সরকার।

তৃণমূল সরকারের শেষদিকে বিনিয়োগকারীরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইনসেনটিভ পাননি। এই বকেয়ার অঙ্ক এখন প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। তা ফেরাতে চায় বিজেপি সরকার। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় মঙ্গলবার বলেন, ‘‘অনেকগুলি ইতিবাচক পদক্ষেপ থাকছে নয়া শিল্পনীতিতে। তৃণমূলের সময় যে সব কারণে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, সেগুলি নিয়ে সুনির্দিষ্ট ইতিবাচক বার্তা থাকবে। বড় জমি না পেলে তো বৃহৎ লগ্নি সম্ভব নয়। তাও ভাবছে এই সরকার। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পও অক্সিজেন পাবে নয়া নীতিতে।’’

নবান্ন সূত্রে খবর, শিল্পে ইনসেনটিভ পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু মাপকাঠি রাখতে চলেছে সরকার। প্রথমত, লগ্নির অঙ্ক, যা কম করে ১০০ কোটি হবে বলেই খবর। দ্বিতীয়ত, সেখানে কর্মসংস্থান। স্থানীয়দের কাজ পাওয়ার দিকেও নজর থাকবে।

তবে নবান্ন সূত্রে খবর, শিল্পে ইনসেনটিভ পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু মাপকাঠি রাখতে চলেছে সরকার। প্রথমত, লগ্নির অঙ্ক, যা কম করে ১০০ কোটি হবে বলেই খবর। দ্বিতীয়ত, সেখানে কর্মসংস্থান। স্থানীয়দের কাজ পাওয়ার দিকেও নজর থাকবে। গড়ে ওঠা শিল্পে সেখানকার জমিদাতাদের মধ‌্য থেকে যোগ‌্যদের কাজ দেওয়ার সুযোগ কীভাবে করে দেওয়া যায় তাও রয়েছে ভাবনায়। সেই লক্ষ‌্যপূরণে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাবও থাকবে সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। ক্যাবিনেটের শিল্প সংক্রান্ত মন্ত্রিগোষ্ঠী ইতিমধ্যে শিল্পনীতি অনুমোদন করেছে।

অর্থদপ্তরও ছাড়পত্র দিয়েছে। যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর এবং ডেটা সেন্টার-এর মতো প্রযুক্তি-নির্ভর ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উত্তরবঙ্গে শিল্প গড়লে অতিরিক্ত ইনসেনটিভ দেওয়ার কথাও রয়েছে। সূত্রের খবর, শিল্পের জন্য বরাদ্দ জমি পাওয়ার পর তিন বছরের মধ্যে সেখানে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করা বাধ্যতামূলক হবে, অন্যথায় সেই জমি ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তা ছাড়াও সিঙ্গুর, হিন্দমোটর এবং আসানসোল-রানিগঞ্জ, বড়জোড়া, হাওড়ার কিছু শিল্পাঞ্চলে বন্ধ কারখানা বা অব্যবহৃত জমিকে শিল্পকাজে ব্যবহার করার বিশেষ পরিকল্পনার কথা থাকছে নয়া নীতিতে।

Source: Sangbad Pratidin Education (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Education (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language