তাঁরা আজীবন একে ওপরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এসেছেন। দুই মহাতারকার ভক্তকূল যেন তাঁদের একে ওপরের শত্রু বানিয়ে ফেলেছেন। তবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং লিওনেল মেসি যে একে অপরকে শত্রু মনে করেন না, তাঁরা যে একে অপরকে অপার শ্রদ্ধাশীল চোখে দেখেন সেটা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল মেসির অবসরের দিন। এক আবেগঘন বার্তায় রোনাল্ডো বলে দিলেন, ‘চিরশত্রু’ যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা অভাবনীয়।
মেসির অবসরের পর আবেগি বার্তায় রোনাল্ডো বলছিলেন, “লিও, এত বছর ধরে তুমি তোমার দেশের জন্য লড়ে গিয়েছো। যে কাহিনি ফুটবল লোকগাথায় স্থান পাবে। তোমার প্রতি সহস্র সম্মান থাকল আমার পক্ষ থেকে। তুমি আর্জেন্টিনার হয়ে যা করে দেখিয়েছো, অতুলনীয়। তোমাকে অনেক ভালোবাসা লিও।” পুরো বার্তাটাই যেন শ্রদ্ধা আর সম্মানে ভরা।
২০০৫ থেকে শুরু। দীর্ঘ কুড়ি বছরের যাত্রাপথ। একট সময় টানা ব্যর্থতায় ক্লান্ত হয়ে মেসি অবসরের ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। সিদ্ধান্ত বদল করে প্রত্যাবর্তন। তারপর শুধুই রূপকথা। বিদায় বেলায় কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসছিল মেসির। বলছিলেন, “এই কুড়ি বছর অনেক খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। কিন্তু লড়াই করার মানসিকতা কখনও বদলায়নি। সবসময় নিজেকে তাতিয়েছি। এই মাঠে আর নামব না, আর্জেন্টিনা জার্সিতে আর কখনও খেলব না। সেটাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে আমায়। জীবনের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার জিনিস হল-আর্জেন্টিনা জার্সিতে মাঠে নামা।” আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি বলছিলেন, “মেসির মতো কেউ আর আসবে না।”
শেষবারের জন্য যখন স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, গ্যালারি সেদিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে! শেষবারের মতো গর্জে উঠল গ্যালারি। তারপর এক সমুদ্র নীরবতা। সেই নীরবতার মধ্যে একটাই সুর–ফুটবলকে এত সুন্দর করার জন্য ধন্যবাদ মেসি।
