ত্রিপুরার বক্সনগর সীমান্তে পাচারকারীদের আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৩ জন বিএসএফ জওয়ান। এই ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্য জুড়েই। সোনামুড়া মহকুমার কলমচৌড়া থানার বক্সনগর আশাবাড়ি এলাকায় বিএসএফ ও পাচারকারীদের মধ্যে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল? জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সকাল ৯টা নাগাদ। ত্রিপুরার (Tripura) বক্সনগরে আশাবাড়ি বিওপি এলাকার কাঁটাতারের বেড়ার ১৭৪ এবং ১৭৫ নং গেটের মাঝামাঝি অঞ্চল দিয়ে পাচারকারীরা অবৈধ মাল পাচার করছিল। আর এরপরই ৪৯ নং ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা তাদের ধাওয়া করে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে হেফজুর রহমান নামে এক স্থানীয় যুবককে আটক করে মারতে থাকে জওয়ানরা। বিএসএফের লাঠির আঘাতে হেফজুর রহমানের পা কেটে রক্ত বেরিয়ে যায়। বিষয়টি সেই পর্যন্তই ছিল। জওয়ানরা ফিরেও যায়। কিন্তু বক্সনগর হাসপাতালে চিকিৎসার পর আশাবাড়ি নতুন বাজারে নিয়ে আসা হয় হেফজুরকে। এরপরই ক্ষোভে ফুঁসে উঠে পাচারকারীরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে মিলে বক্সনগর-রহিমপুর রাস্তা অবরোধ করে। এই সময় রহিমপুর কাঁটামুড়া বিওপির তিনজন বিএসএফ জওয়ান গাড়ি নিয়ে বক্সনগরের দিকে যাচ্ছিলেন। ওই জওয়ানদের উপরে চড়াও হয় পাচারকারীরা, অভিযোগ এমনই।
আক্রমণকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মহিলাও ছিলেন বলে দাবি। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওয় জওয়ানদের মেরে মাথা ফাটিয়ে মাটিতে ফেলে বন্দুক ছিনতাই করার চেষ্টা করতে দেখা যায় পাচারকারীদের। এমনকী, গাড়িটিও ভেঙেচুরে দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে আশাবাড়ি বিওপি থেকে বেশ কয়েকজন বিএসএফ জওয়ান ঘটনাস্থলে আসেন। এরপরই হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। নিন্দায় সরব হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবও। ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলমচৌড়া থানায় বিএসএফের পক্ষ থেকে ১৮ জন অভিযুক্তর বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এলাকার পরিবেশ থমথমে বলে জানা যাচ্ছে।
Source: Sangbad Pratidin India (Bengali)