ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলার স্বপ্ন কার না থাকে? সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছিল অমিত মিশ্ররও। যদিও আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। এরপর শুরু হয় তাঁর কেরিয়ারে সবচেয়ে কঠিন লড়াই। ১৮ মাস অবসাদে ভুগেছিলেন। যন্ত্রণার কথা কাউকে বলতেও পারেননি। ক্রিকেটজীবনের ‘কঠিনতম’ সময়ের কথা এবার প্রকাশ্যে আনলেন অমিত।
ভারতের হয়ে খুব বেশি দিন না খেললেও ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে পরিচিত নাম অমিত। ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি আইপিএলেও নজর কেড়েছেন। এবার দিল্লি ক্যাপিটালসের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব সামলাবেন তিনি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সহকারী হিসাবে নতুন ইনিংস শুরুর আগে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার আকাশ চোপড়ার পডকাস্টে এসে এ কথা জানিয়েছেন অমিত। ২০০৩ সালে ভারতের ওয়ানডে দলে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। দল থেকে বাদ পড়েন অমিত। তার পরেই শুরু হয় মানসিক টানাপোড়েন।
সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে অমিত বলেন, “প্রায় দেড় বছর অবসাদে ভুগেছি। শুধু ভাবতাম, কোথায় ভুল করলাম। সব সময় মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরত, কেন দল থেকে বাদ পড়লাম? কী ভুল করেছিলাম? এর কোনও উত্তর খুঁজে পেতাম না।” কেবল জাতীয় দল নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটেও ক্রমশ সুযোগ হারাতে থাকেন অমিত। দলীপ ট্রফি, ভারত ‘এ’ দল কিংবা জোনাল দল– কোথাও জায়গা হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে এক নির্বাচকের পরামর্শই তাঁকে নতুন করে ভাবতে শেখায়।
অমিতের কথায়, “ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর বাদ পড়েছিলাম। তার পর দলীপ ট্রফিতেও জায়গা হয়নি। ভারত ‘এ’ দল কিংবা জোনাল দলেও সুযোগ পাচ্ছিলাম না। সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছিল। সেই সময় এক নির্বাচক আমাকে বলেন, আমি ভালো খেলতে পারছি না। তখনই বুঝতে পারি, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করতে না পারলে ভারতীয় দলে ফেরার সুযোগ পাব না।”
তিনি আরও বলেন, “খারাপ সময়ে কথা বলার মতো কেউ ছিল না। পরিবারের কাউকেও কিছু জানাতে পারিনি। কারণ, ওরা জানলে আমার থেকেও বেশি চিন্তা করত। তাই নিজেকেই নিজের পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছে। আমাকে ব্যাটিংয়ে উন্নতি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সেই চেষ্টাও করেছি। তার পর দলীপ ট্রফিতে খেলার সুযোগ পাই। আমার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না। তাই পারফরম্যান্স দিয়েই নিজেকে প্রমাণ করে ফিরতে হয়েছে।”
ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করে ফের জাতীয় দলে জায়গা করে নেন তিনি। ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তন হয় তাঁর। এবার ওয়ানডে ক্রিকেটে নয়, টেস্টে অভিষেক ঘটে অমিতের। ভারতের হয়ে ২২ টেস্ট, ৩৬ ওয়ানডে এবং ১০ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। আইপিএলে ১৬২টি ম্যাচে ১৭৪টি উইকেট রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। আইপিএলের ইতিহাসে তিনটি হ্যাটট্রিক করা একমাত্র বোলারও অমিত।
