Hashtagintro

দশমীতে বন্ধ হচ্ছে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির সিঁদুর খেলা! স্বামীর প্রয়াণের পর ‘সিদ্ধান্ত’ অমৃতার

নদিয়ার কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় বন্ধ হচ্ছে সিঁদুর খেলা! রাজার প্রয়াণের পর দুর্গাপুজো নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন রাজবধূ অমৃতা রায়। বিজয়া দশমীতে রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায় তিনি আর অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন। ফলে তাঁর অংশগ্রহণে সিঁদুর খেলা বন্ধ থাকছে। তাতেই বন্ধের মুখে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজবাড়িতে বংশানুক্রমে চলে আসা সিঁদুর খেলার প্রথা। তবে ভবিষ্যতে তাঁর ছেলে বিয়ে করলে নিজের ইচ্ছায় এই প্রথা চালিয়ে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন অমৃতা।

গত মার্চ মাসে অমৃতা রায়ের স্বামী তথা কৃষ্ণনগরের রাজা সৌমীশচন্দ্র রায় প্রয়াত হন। তাঁর মৃত্যুর পর রাজবাড়িতে এটি প্রথম দুর্গাপুজো। এ বছর কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কমানো হয়েছে পুজোর জৌলুস। অমৃতা রায় জানান, এ বছর তাঁরা গর্ভগৃহে প্রবেশ করবেন না। পুজো তাঁদের নামেও হবে না। পরিবারের প্রবীণ সদস্য ‘ঠাকুমা’ পুজোর দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। দেবী প্রতিমার আকারও কিছুটা ছোট করা হয়েছে। আলোকসজ্জা কম হতে পারে। বন্ধ থাকতে পারে সানাই বাজানোও। পাশাপাশি বন্ধ হচ্ছে সিঁদুর খেলা। অমৃতা জানিয়েছেন, “সিঁদুর খেলায় অংশ নেব না। ভবিষ্যতে ছেলে বিয়ে করলে এবং নিজের ইচ্ছায় চাইলে এই প্রথা চালিয়ে যেতে পারেন। ছেলের উপর কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেব না। বিজয়া দশমীতে ঠাকুরমশাই দেবীকে বরণ করবেন।”

পুজোর আড়ম্বর কমলেও নিয়মে কোনও বদল ঘটছে না। পুরনো রীতি মেনেই রবিবার প্রতিপদ থেকেই পুজো শুরু হয়েছে রাজবাড়িতে। হোম শুরু হয়েছে। রবিবার থেকেই মায়ের হোমে ভোগ ও অন্নভোগ নিবেদন হয়েছে। ষষ্ঠীতে হবে বোধন। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই হবে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর পুজো। মায়ের ভোগে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। সাত রকম ভাজা ও অন্নভোগের ব্যবস্থা থাকবে। নবমীর দিন প্রচলিত রীতি মেনে দেবী দুর্গাকে মাছের মুখ দেখানো হবে। পাশাপাশি কুমড়ো বলি-সহ রাজবাড়ির নির্দিষ্ট বলির আচারও সম্পন্ন হবে।

অমৃতা রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, “পুজোর মূল নিয়মকানুন ও মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠান আগের মতোই বজায় থাকবে।” শোকের আবহে কী রাজবাড়ির দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকবে? সেই বিষয়ে অমৃতা বলেন, “সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য রাজবাড়ির পুজো অবশ্য আগের মতোই খোলা থাকবে। জেলাবাসীকে তাঁর বার্তা, “সবাই যেন ভালো থাকেন। সুস্থ থাকেন। রাজবাড়িকে নিজেদের বাড়ি মনে করেই পুজোয় আসেন।”

Source: Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language