সন্ধিপুজোর মুহূর্ত। ধূপের গন্ধে ভারী ঠাকুরদালান। মন্ত্রোচ্চারণের আবহে আচমকাই উড়ে আসে এক ভ্রমর। তারপরই দেবীর চরণে সাজানো ফুলের একটি অংশ খসে পড়ে মাটিতে। পরিবারের বিশ্বাস, এটাই দেবীর ‘সাড়া’। শুধু তাই নয়, সেই ফুলের মধ্যেই নাকি লুকিয়ে থাকে আগামী বছরের ইঙ্গিত! এমনই এক আশ্চর্য লোকবিশ্বাসকে ঘিরে আজও শালতোড়ার বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে পালিত হয় দু’শো বছরেরও বেশি পুরনো দুর্গাপুজো। এই বনেদি বাড়িতে দুর্গোৎসব মানেই শুধু মন্ত্র, অঞ্জলি আর ভোগ নয়।
পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা পারিবারিক রীতি ও বিশ্বাস। তার মধ্যে সবচেয়ে চর্চিত সন্ধিপুজোর সময় দেবীর ‘সাড়া পাওয়া’। পরিবারের প্রবীণদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ে ঠাকুরদালানে ভ্রমরের উপস্থিতি এবং তারপর দেবীর চরণ থেকে ফুল খসে পড়া বিশেষ লক্ষণ। ফুল কীভাবে বা কতটা পড়ল, তার মধ্যেই নাকি খোঁজা হয় আগামী দিনের ইঙ্গিত। এই বিশ্বাসের অবশ্য কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের পুজোর সঙ্গে তা এমন ভাবে মিশে গিয়েছে যে ওই মুহূর্তটির অপেক্ষায় থাকেন সকলে।
পরিবারের প্রবীণদের বয়ান অনুযায়ী, প্রায় ২০০ বছর আগে ভৈরব ভট্টাচার্যের হাত ধরে পুজোর সূচনা। পরে পরিবার বন্দ্যোপাধ্যায় পদবি গ্রহণ করে। সেই থেকে চলে আসছে পুজো। দেবী এখানে ঘরের মেয়ের মতো। সোনার গয়নায় সাজানো হয় প্রতিমা, দশ হাতে থাকে রুপোর অস্ত্র। নবমীতে কুমারীপুজো, অষ্টমীতে খিচুড়ি-পায়েসের ভোগ। আরও একটি বিশেষ রীতি দশমীতে হয় না বিসর্জন। লক্ষ্মীপুজো শেষ হওয়ার পর কন্যা লক্ষ্মীকে সঙ্গে নিয়েই দেবী বিদায় নেন। তাই শালতোড়ার বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে দুর্গোৎসবের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত আজও সেই সন্ধিপুজো। কখন আসবে ভ্রমর, কখন খসে পড়বে ফুল, আর কখন দেবী দেবেন তাঁর ‘সাড়া’।