পরিকল্পনা ছিল শুক্রবার। একদিন পরে হলেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ আয়োজন করে ফেলল ইন্ডি জোট। শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের রাজাজি মার্গের বাড়িতে ওই মক পার্লামেন্টের (Mock Parliament) আয়োজন করা হয়। যদিও ইন্ডি জোট ওই পুরো ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়াকে মক পার্লামেন্ট বলতে রাজি নয়। পরবর্তীতে ওই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জন মহাভিযোগ’।
এদিন নির্ধারিত সময় সাড়ে ৩টে নাগাদ খাড়গের বাসভবনে ওই ‘জন মহাভিযোগ’ শুরু হয়। স্পিকারের আসনে দেখা যায় প্রাক্তন লোকসভার স্পিকার মীরা কুমারকে। সামনে সদস্যদের মধ্যে ছিলেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, হেমন্ত সোরেন, এমএ বেবি, বৃন্দা কারাট-সহ ইন্ডি জোটের অন্য নেতারা। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে সৌগত রায়, সাগরিকা ঘোষরা। এদিন প্রথা মেনে অধিবেশন শুরু করেন মীরা কুমার। তিনি বলেন, “ভারতের গণতন্ত্রের শক্তিই ভোট প্রক্রিয়ায়। যদি একজন ভোটারকেও ভোটদান থেকে বিরত করা হয়, তাহলে সেটা আমাদের গণতন্ত্রের মূল ভাবনার বিরোধী হয়ে দাঁড়ায়।” এরপর ইন্দিরা এবং সর্দার প্যাটেলকে স্মরণ করে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ করেন মল্লিকার্জুন খাড়গে।
খাড়গের পেশ করা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে মোট ৬টি অভিযোগ করা হয়েছে। ১। ভোটচুরির ষড়যন্ত্র। ২। ১৩.২ কোটি ভোটারের নাম বাদ। ৩। সংসদের অনুমোদন ছাড়ে ফর্ম ৬-এ বদল এনেছেন। ৪। ইসিআইনেটের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় কারচুপি। ৫। অন্য দুই কমিশনারের পরামর্শ অমান্য। ৬। মোদি ও শাহর নির্দেশ কাজ। খাড়গের অভিযোগ, মোদি ও শাহর নির্দেশে যেভাবে ভোটচুরি করেছেন জ্ঞানেশ কুমার, সেটা দেশদ্রোহিতার শামিল।
কংগ্রেসের দাবি, এই মক পার্লামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে জনমানসে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশে। কীভাবে আমজনতার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, সেটা মানুষের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। যদিও বিজেপির দাবি, সব নাটকই করা হচ্ছে রাহুল গান্ধীকে রিলঞ্চ করার উদ্দেশে। বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদীর বক্তব্য, “সবটাই নাটক। রাহুল গান্ধীকে নতুন করে লঞ্চ করতে চাইছে কংগ্রেস।” একই সঙ্গে এভাবে মক পার্লামেন্টে সাংসদ ও প্রাক্তন স্পিকারের অংশগ্রহণ করাকে সংসদীয় ব্যবস্থার প্রতি অসম্মান প্রদর্শন হিসাবেও দেখছে।
Source: Sangbad Pratidin India (Bengali)
