নানা পাটেকরের অকাল মৃত্যুতে যখন মায়ানগরীর আকাশে বিষাদের সুর, তখন প্রয়াণসংবাদ শুনেই অনাবিল শান্তি পেলেন বঙ্গললনা তনুশ্রী দত্ত। প্রয়াণসংবাদ শুনেই ‘আশিক বনায়া আপনে’ নায়িকা বলেন, ‘শয়তানের মৃত্যু’। মৃত মানুষের উদ্দেশে এহেন অসংবেদনশীল মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠতা ও সভাপতি শ্যামলাল গুপ্ত। তনুশ্রীর আচরণের সমালোচনা করে কড়া বিবৃতি জারি করেছেন। সংগঠনের তরফে শ্যামলাল গুপ্তের তনুশ্রীকে ধিক্কার, “কিংবদন্তি নানা পাটেকরের প্রয়াণে তনুশ্রী দত্তের ইভিল ডেড মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন।” একই সঙ্গে শোকের আবহে তনুশ্রীর মন্তব্যকে সস্তা প্রচার বলেও কটূক্তি করেছেন শ্যামলাল গুপ্ত।
অভিনয় জগতে নানা পাটেকরের অসামান্য অবদানের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজের কথাও স্মরণ করেছেন সংগঠনটি। পদ্মশ্রী সম্মান, কৃষক পরিবারের দুর্দশা লাঘবে ‘নাম ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে সাহায্যের হাত বাড়ানো এবং কারগিল যুদ্ধের সময় প্রয়াত অভিনেতার দেশের স্বার্থে তাঁর অবদানের স্মৃতিচারণা করে। নানা পাটেকরের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তনুশ্রী দত্তের বক্তব্যের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শোকের মুহূর্তে সোশাল মিডিয়ায় তনুশ্রী দত্তের ইভিল ডেড শব্দবন্ধ ব্যবহার করে যে মন্তব্য করেছেন তা অত্যন্ত অসংবেদনশীল ও লজ্জাজনক। এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করছে সংগঠন।’
সংগঠনটির বক্তব্য, মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা মানবিকতার পরিপন্থী। কঠিন সময়ে আরও সংবেদনশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, ‘কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর সম্পর্কে এমন শব্দ ব্যবহার করা নৈতিক মানবিকতার বিরোধী। আজ পর্যন্ত আমাদের চলচ্চিত্র জগতে কারও মৃত্যুর পর কেউ এমন মন্তব্য করেননি। আপনিই প্রথম। প্রার্থনা করি, আপনিই যেন শেষ উদাহরণ হন। এমন পরিস্থিতিতে কী বলতে হয় এবং কখন নীরব থাকতে হয় তা এই ইন্ডাস্ট্রির মানুষ জানেন। আপনার বক্তব্যে নিয়ন্ত্রণ রাখা উচিত ছিল।’
View this post on Instagram
পেশাগত কর্মসূচির কথা উল্লেখ করার জন্যও কটাক্ষের শিকার তনুশ্রী। সংগঠনের দাবি, “আপনি বলেছেন, আজ আপনার কাজের দিন। আপনি একটি বড় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লখনউ যাচ্ছেন এবং আপনার সারাদিনের পরিকল্পনা করা রয়েছে। নিজের কাজ করুন, আপনাকে কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করেনি। আপনার অনুষ্ঠান লখনউতে হোক বা লন্ডনে, আপনি মন দিয়ে কাজ করুন বা না করুন, তাতে কারও আগ্রহ নেই। যেদিন গোটা দেশ একজন মহান ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে শোকাহত, সেদিন নিজের অনুষ্ঠান ও ব্যক্তিগত পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলা অত্যন্ত সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দেয়।’
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তনুশ্রী স্পষ্ট জানান, প্রয়াত অভিনেতা সম্পর্কে ‘ইভিল ডেড’ মন্তব্যে তাঁর বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই। অভিনেত্রীর দাবি, “যে মানুষটা খারাপ পরিস্থিতির শিকার, চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে প্রতি মুহূর্তে শ্বাস নিতে হয়েছে একমাত্র সেই জানে। মি টু আন্দোলনের সময় কেস তুলে নেওয়ার জন্য অনেক চাপ দেওয়া হয়েছে। অর্থের প্রলোভন দেখানো হয়েছে। গাড়ির ব্রেক ফেল করিয়ে অ্যক্সিডেন্ট করিয়েছে, ফুড পয়জেনিং হয়েছে। যাঁদের ভালো অভিজ্ঞতা আছে সেটা সম্পূর্ণ তাঁদের ব্যক্তিগত উপলব্ধি।”
