পানীয় জল সরবরাহের পরিকাঠামো রয়েছে, নিয়ম মেনে পাইপলাইনে জলও আসছে। কিন্তু সেই জল ধরে রাখার উপায় নেই। কারণ, পাড়ায় পাড়ায় এবং গ্রামে গ্রামে পাইপলাইনের মুখে লাগানো কল চুরি হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রয়োজন মিটে যাওয়ার পরেও অবিরাম জল বেরিয়ে নষ্ট হচ্ছে। বীরভূমের (Birbhum) বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় এই সমস্যা ক্রমশ বাড়তে থাকায় উদ্বেগে প্রশাসনিক আধিকারিকরা। সরকারি উদ্যোগে পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও শুধুমাত্র কল চুরির কারণে বিপুল পরিমাণ জল অপচয় হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
আধিকারিকদের বক্তব্য, প্রতিটি এলাকায় বারবার কল লাগানোর মতো পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ নেই। একটি বা দুটি কল বসানোর জন্য যে অর্থ বরাদ্দ থাকে, তা দিয়ে মাসে একাধিকবার নতুন কল লাগানো কার্যত অসম্ভব। জেলার প্রতিটি পাড়ার প্রতিটি পাইপলাইনের মুখে পাহারার ব্যবস্থাও বাস্তবসম্মত নয়।
পুরসভা ও পঞ্চায়েতের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় নির্দিষ্ট সময় অন্তর পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। সেই জল সংগ্রহের জন্য পাইপের মুখে কল বসানো থাকে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে সেই কল খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে অভিযোগ। কল না থাকায় জল সরবরাহ শুরু হলে তা আর বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় জল সংগ্রহের পরেও অবশিষ্ট জল রাস্তায় বা নিকাশি নালায় বয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের একাংশের দাবি, এই অপচয় বন্ধ করা গেলে জেলার আরও ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ মানুষকে অতিরিক্ত পানীয় জল সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। কেন বারবার চুরি হচ্ছে কল?
একাধিক পুরসভা ও পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের বক্তব্য, স্থানীয় এলাকায় নেশার প্রবণতা বৃদ্ধির সঙ্গে এই ঘটনার যোগ রয়েছে। আগে পাইপলাইনে লোহার কল বসানো হত। সেগুলি খুলে বিক্রি করে পাওয়া টাকা দিয়ে নেশার সামগ্রী কেনা হত বলে অভিযোগ। চুরি আটকাতে পরে তুলনামূলক কম দামি প্লাস্টিকের কল বসানো শুরু হয়। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি। সামান্য ১০ থেকে ২০ টাকার বিনিময়েও সেই কল খুলে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে দাবি আধিকারিকদের। এরপর আরও সস্তার কল ব্যবহারের কথা ভাবা হলেও তাতে অন্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। কম দামি কল কয়েক দিনের মধ্যেই ভেঙে যাচ্ছে বা খারাপ হয়ে পড়ছে। ফলে একদিকে চুরি, অন্যদিকে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া-দুইয়ের মোকাবিলা করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে স্থানীয় প্রশাসন।
আধিকারিকদের বক্তব্য, প্রতিটি এলাকায় বারবার কল লাগানোর মতো পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ নেই। একটি বা দুটি কল বসানোর জন্য যে অর্থ বরাদ্দ থাকে, তা দিয়ে মাসে একাধিকবার নতুন কল লাগানো কার্যত অসম্ভব। জেলার প্রতিটি পাড়ার প্রতিটি পাইপলাইনের মুখে পাহারার ব্যবস্থাও বাস্তবসম্মত নয়। জেলা পুলিশের এক কর্তার কথায়, সরকারি সম্পত্তি চুরি করা অপরাধ। তবে জেলার সমস্ত পানীয় জলের পাইপলাইন পাহারা দেওয়া পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতা এবং সহযোগিতাই এই সমস্যা মোকাবিলার অন্যতম উপায়। প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও বক্তব্য, সরকারি পরিকাঠামো রক্ষায় সাধারণ মানুষের দায়িত্ববোধ বাড়ানো জরুরি। নইলে পানীয় জলের মতো মূল্যবান সম্পদের অপচয় ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।
