সারাজীবন চিকিৎসাবিজ্ঞান সাধনার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেয়েছেন। সকালে ঘুম ভাঙতে না ভাঙতে সুখবর এসেছে। মানব মস্তিষ্কের গঠন, স্মৃতি নিয়ে জীবনভর গবেষণার পুরস্কার হিসেবে ২০২৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। পুরস্কার ভাগ করে নিয়েছেন ৫৪ বছরের মার্কিন বিজ্ঞানী কার্ল ডিসেরথ, ৭১ বছর বয়সি পিটার হেগেম্যান এবং ৭৩ বছর বয়সি জর্জ ন্যাগেল। জীবনের এমন সুন্দরতম মুহূর্ত সবার আগে সন্তানদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন বিজ্ঞানী কার্ল। তা শুনে ছেলেমেয়েদের যা প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, তা এখন ভাইরাল। ভিডিও দেখে সকলেই বলছে, পৃথিবী বিখ্যাত বিজ্ঞানী কিন্তু আসলে একেবারে মাটির মানুষ। তাঁর ছেলেমেয়ের উচ্ছ্বাস যেন প্রতিটি সাধারণ ঘরেরই ছবি।

কার্ল আলেকজান্ডার ডিসেরথ আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী। তাঁর গবেষণা বায়োইঞ্জিনিয়ারিং এবং মনোবিজ্ঞান নিয়ে। মূলত মানুষের মস্তিষ্কের গঠন এবং তার ভিত্তিতে তৈরি অনুভূতি, আচরণ এসব নিয়ে চর্চা করেন কার্ল। কে না জানে মস্তিষ্কের এই আজব ‘খেলা’ আসলে মানবজীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? সেই গুরুত্ব বিবেচনা করে এবছর সুইডিশ নোবেল কমিটি কার্লকে নোবেল পুরস্কার দিয়েছে। সোমবার সেই খবর পান স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানী। সাধারণত এসব খবর আগে বয়ে আনে অনুরাগী মহল। অভিনন্দন, শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু কার্লের ক্ষেত্রে ছবিটা একটু ব্যতিক্রম। তিনি নিজেই নোবেলপ্রাপ্তির খবর পেয়ে তা প্রথম শেয়ার করেন পরিবারের সঙ্গে। স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের মাঝে হাসিমুখে কার্ল জানান, তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
The most important briefings of the day. Karl Deisseroth, professor of bioengineering and of psychiatry and behavioral sciences, shares the news of his Nobel Prize with his kids. https://t.co/pTzP1A3pHj
— Stanford University (@Stanford) October 5, 2026
এই খবর শুনেই তাঁর ছেলেমেয়েরা যেভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল, তা যে কোনও পরিবারের মতোই। বাবা নোবেল পেয়েছে শুনেই কোলে উঠে পড়ে মেয়ে! ছুটে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে ছেলে। আর পাঁচটা সাধারণ পরিবারের মতো কার্লের সন্তানদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ার ভিডিওটি সযত্নে তুলে রেখেছিলেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মীরা। নিমেষে তা ভাইরাল হয়ে যায়। নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর ছেলেমেয়েদের এহেন উচ্ছ্বাস দেখে নেটিজেনরা আপ্লুত। বলছেন, একেই বলে ‘সিম্পল লিভিং, হাই থিঙ্কিং’।
