Hashtagintro

পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনের পরই তৃণমূল-বিজেপির সমীকরণ এলোমেলো! টানটান নাটক বান্দোয়ানে

বদলের বাংলায় পঞ্চায়েত বোর্ড গড়েও হাতছাড়া হল তৃণমূলের। পুরুলিয়ার বান্দোয়ানে কুমড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন নিয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর নাটক! সদস্যদের সমর্থন নিয়ে তৃণমূল ক্ষমতা পেলেও পরক্ষণেই সদস্যরা বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে দলবদল করেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্কে কুমড়া গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূল দখল করার পরই তা বিজেপির দখলে চলে গেল। দেখেশুনে স্থানীয় লোকজনের কটাক্ষমূলক মন্তব্য, এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল, যে তৃণমূল সেই বিজেপি।

কুমড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে সিপিএমকে সঙ্গে নিয়ে মহাজোটের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিল তৃণমূল। তবে ভোটাভুটির সময় সিপিএমকে বাদ রেখে কংগ্রেস ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সমর্থন নিয়ে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত হয় তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। শুধু তাই নয়, এরপর নাটকীয়ভাবে ৭ সদস্য যার মধ্যে তৃণমূলের চার, কংগ্রেসের ১ ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার ২ সদস্য বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে দলবদল করেন। এই যোগদানের পরই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ওই গ্রাম পঞ্চায়েত নিজেদের দখলে আসে বলে বিজেপির দাবি। তৃণমূলের হাত ধরে অনাস্থা আনার পর রাজনৈতিক সমীকরণ এভাবে বদলে যাওয়ায় হতাশ ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ সিপিএম সদস্য। তবে তাঁরা দলত্যাগ করেনি।

বান্দোয়ানের কুমড়া গ্রাম পঞ্চায়াতে বোর্ড গঠনের পরই সদস্যরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় সমীকরণ বদলেছে, নিজস্ব ছবি

পঞ্চায়েতে সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে কুমড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৯ সদস্যের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছে ৪টি, সিপিএম ২, জেএমএম ২ ও কংগ্রেস একটি আসন পায়। তাতে এককভাবে কেউ বোর্ড গঠন করতে পারেনি। ফলে সিপিএম, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ও কংগ্রেসের ৫ সদস্যের মহাজোট হয়। তবে একজনের ত্রুটিপূর্ণ ভোট হওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে লটারির মাধ্যমে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত হন। প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মৌসুমী মুর্মু এবং উপপ্রধান হয়েছিলেন কংগ্রেসের অনিলবরণ মানকি।

কিছুদিন আগে তৃণমূলের ৪ ও সিপিএমের ২ সদস্য প্রধান এবং উপপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। বুধবার নতুন বোর্ড গঠনের সময় প্রধান এবং উপপ্রধান পদের জন্য প্রস্তাব আনা হয়। তাতে তৃণমূলের ছন্দা মিশ্র এবি ও জহর সিংয়র নাম মনোনীত হয়। সেখানে সিপিএমের দুই সদস্য ছাড়া অপসারিত প্রধান, উপপ্রধান-সহ ৭ জনই তাঁদের সমর্থন করেন। স্থানীয় বিজেপির দাবি, বোর্ড গঠনের পর ৭ জনেই স্বেচ্ছায় বাইরে বেরিয়ে এসে বিজেতা বিজেপির ঝান্ডা ধরে দলবদল করেন। মাখলেন গেরুয়া আবিরও। স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের অবশ্য দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা সবসময় লড়াই করবে।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language