Hashtagintro

পড়ুয়াদের ঘাড়ে ব্যথা বাড়াচ্ছে মোবাইল? ‘টেক নেক’ ঠেকাতে রইল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

পড়াশোনার প্রয়োজনে হোক বা অবসর, স্কুলপড়ুয়াদের দিনের একটা বড় সময়ই এখন কাটে স্ক্রিনের সামনে। কোভিডের পর পড়াশোনায় মোবাইল-নির্ভরতা বেড়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম আর দীর্ঘক্ষণ ঘাড় নিচু করে ফোন দেখার অভ্যাসে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বাড়ছে ঘাড়ে ব্যথা।

ঘাড় ঝুঁকেই যত বিপদ
মোবাইল দেখার সময় ফোনটি সাধারণত বুক বা কোমরের কাছাকাছি থাকে। ফলে স্ক্রিন দেখতে মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখতে হয়। এই অবস্থায় যত বেশি সময় কাটে, ঘাড়ের পেশির উপর তত বেশি চাপ পড়ে। প্রথমে পেশিতে টান, শক্তভাব ও ব্যথা শুরু হয়। কিন্তু অভ্যাসটি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সমস্যা আরও গভীরে যেতে পারে।

ঘাড়ে মেরুদণ্ডের হাড়গুলির মাঝখানে থাকে ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক। দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে থাকার ফলে সার্ভাইক্যাল স্পাইনের উপর বাড়তি চাপ পড়ে। সময়ের সঙ্গে ডিস্ক ও মেরুদণ্ডের বিভিন্ন অংশে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘক্ষণ ঘাড় নিচু করে মোবাইল বা ট্যাব ব্যবহারের কারণে তৈরি এই সমস্যাকে বলা হয় ‘টেক নেক’।

tech neck in school students expert tips neck pain
পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে ঘাড়ে ব্যথা। ছবি: সংগৃহীত

ব্যথা নামতে পারে হাতে
ঘাড়ের মেরুদণ্ডের ভিতর দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নার্ভ বেরিয়ে হাতের দিকে গেছে। তাই ঘাড়ের সমস্যা শুধু ঘাড়েই আটকে থাকে না। নার্ভে চাপ বা ইরিটেশন তৈরি হলে ঘাড় থেকে কাঁধ, বাহু হয়ে হাতে ব্যথা ছড়াতে পারে। সমস্যা বাড়লে হাত বা আঙুলে ঝিনঝিনি, অবশভাব বা অনুভূতি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে হাতের পেশির জোরও কমতে পারে। তবে এগুলি কেবলমাত্র গুরুতর ক্ষেত্রেই দেখা যায়। এমন উপসর্গ শুরু হলে অবহেলা করা একদম উচিত নয়।

মোবাইল থাক, অভ্যাস বদলাক
পড়াশোনার প্রয়োজনেই যখন মোবাইল ব্যবহার করতে হচ্ছে, তখন একেবারে নিষেধাজ্ঞা সমাধান নয়। বরং কীভাবে এবং কতক্ষণ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ফোন বা ট্যাব যতটা সম্ভব চোখের সমতলের কাছাকাছি রাখা, দীর্ঘক্ষণ ঘাড় নিচু করে না থাকা এবং নিয়মিত বিরতি নেওয়া দরকার। নিতান্ত জরুরি কারণ ছাড়া ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ট্যাব থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, খেলাধুলা ও শারীরিক সক্রিয়তার জন্য আলাদা সময় রাখতে হবে। ঘাড়ের ব্যথা বারবার হলে বা ব্যথার সঙ্গে হাতে ঝিনঝিনি, অবশভাব বা হাতের জোর কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

Source: Sangbad Pratidin Health (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Health (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language