ভোট ঘোষণার আগেই শনিবার পাঞ্জাবে প্রথম প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেছে আম আদমি পার্টি (আপ)। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলে ‘বিদ্রোহ’। আপ ছাড়লেন দুই বিধায়ক। তাঁদের মধ্যে একজন প্রাক্তন মন্ত্রীও ছিলেন।
রবিবার আপ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন পাটিয়ালার সনৌর কেন্দ্রের বিধায়ক হারমিত সিং পাঠানমাজরা এবং সামানা কেন্দ্রের বিধায়ক চেতন সিং জোরামাজরা। এর মধ্যে চেতন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। স্বাস্থ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর তিনি সামলেছেন। ২০২৪ সালে তাঁকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেন মান। এরপর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। অন্যদিকে, হারমিতের সঙ্গে আপ নেতৃত্বের সংঘাতও নতুন নয়। রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাছাড়া নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা নিয়ে হারমিতের সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাঁর ইস্তফার পরই আপের অন্তর্কলহ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে হারমিত আপের আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, চেতন সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। পরে তিনি তাঁর ইস্তফাপত্র পাঞ্জাবের আপ সভাপতি আমন অরোরার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। অর্থাৎ হাতে রয়েছে আর সাড়ে ৩ মাস। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের অপেক্ষায় না থেকে আগেই প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে আপ। রাজ্যের ১১৭টি বিধানসভা আসনের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৪০টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তারা। পরে ধাপে ধাপে বাকি আসনগুলিতেও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে আপ। প্রকাশিত প্রার্থী তালিকায় নাম রয়েছে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মানের। নিজের পুরনো কেন্দ্র সঙ্গরুর জেলার ধুরি থেকে নির্বাচনে লড়ছেন তিনি। পাশাপাশি, দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি মন্ত্রী সঞ্জীব আরোরাকেও প্রার্থী করা হয়েছে পশ্চিম লুধিয়ানা থেকে। এছাড়া বিদায়ী স্পিকার কুলতার সিং সান্ধওয়ান ফরিদকোট জেলার কোথকাপুরা থেকে লড়ছেন। মানের মন্ত্রিসভার শীর্ষ দুই মন্ত্রী সঞ্জীব অরোরা লুধিয়ানা-পশ্চিম এবং কুলদীপ সিং ধালিওয়াল অমৃতসরের অজনালা বিধানসভা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
Source: Sangbad Pratidin India (Bengali)
