দুবাই পালিয়েও শেষরক্ষা না। স্ত্রীকে নিয়ে আরবদেশে পাকাপাকি বসবাসের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেলো পশ্চিমবঙ্গের ভুয়ো চিকিৎসক শেখ সাইদুলের। স্ত্রীকে দুবাই নিয়ে যাওয়ার জন্য মঙ্গলবার দিল্লিতে পা রাখাই কাল হলো। বিমানবন্দরে নামতেই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বর্ধমানের ভুয়ো চিকিৎসক সাইদুল। তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে বর্ধমানে নিয়ে আসতে পুলিশ দিল্লি গিয়েছে। দ্রুত সাইদুলকে আদালতে তোলা হবে।
সাইদুলের ভুয়ো কীর্তিকলাপ প্রকাশ্যে আসে সেপ্টেম্বরস মাসের গোড়ার দিকে। বর্ধমানের নবাবহাট এলাকায় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ফাইমোসিস অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে মৃত্যু হয় এক শিশুর। ঘটনায় শিশুর পরিবারের তরফে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ করা হয়। ওই শিশুর মা শিল্পা রায়কে ফোনে হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্তে নামে বর্ধমান থানার পুলিশ। পাশাপাশি স্বাস্থ্যদপ্তরও তদন্ত শুরু করে। তাতেই প্রকাশ্যে আসে, অস্ত্রোপচার করা শেখ সাইদুল আদৌ চিকিৎসক নন, তিনি ভুয়ো ডিগ্রিধারী। তাঁর সূত্র ধরে আরও কয়েকজন ভুয়ো চিকিৎসকের সন্ধান পায় স্বাস্থ্যদপ্তর। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল সাইদুল। এরপর স্বাস্থ্যদপ্তর ‘লাইফ কেয়ার’ নামে ওই নার্সিংহোম বন্ধ করে দিয়েছে। বর্ধমান থানার পুলিশ ওই নার্সিংহোমের দুই কর্ণধারকে গ্রেপ্তারও করেছে।
এদিকে, ঘটনার পর সাইদুল গোলাপবাগ মোড় এলাকার অভিজাত আবাসন থেকে এক নার্সিংহোম মালিকের সহায়তায় দুবাই পালিয়ে যায়। কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত মোবাইলে যোগাযোগ রাখত। সেই সূত্রে পুলিশ জানতে পারে সাইদুল দুবাইয়ে রয়েছে। সাইদুলের বারবার মোবাইলের সিম বদল করে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। সেই সূত্রে পুলিশ জানতে পারে স্ত্রীকেও দুবাই নিয়ে গিয়ে ‘সেটল’ হতে চাইছে সাইদুল। এদিকে, সাইদুলের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করেছিল পুলিশ। কিন্তু তার আগেই ভুয়ো চিকিৎসক দুবাই গিয়েছিলেন। ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ নিয়ে সেখানে বসবাস করছিলেন।
স্বামীর সঙ্গে দুবাইবাসী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সাইদুলের স্ত্রী মঙ্গলবার দিল্লি পৌঁছন। সেখানে সাইদুল তাঁকে নিতে দুবাই থেকে বিমানে দিল্লি আসে। দিল্লি বিমানবন্দরে নামতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে সেখানকার পুলিশ। খবর দেওয়া হয় পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশকে। বর্ধমান পুলিশ সেখানে গিয়েছে সাইদুলকে আনতে। তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে। সাইদুলের গ্রেপ্তারিতে হওয়ায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মৃত শিশুর মা শিল্পা রায়। তিনি বলেন, ‘‘আমি চেয়েছিলাম আমার মতো আর কোনও মায়ের কোল যেন খালি না হয়। পুলিশকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। অসংখ্য ধন্যবাদ পুলিশ আমার মেয়ের হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করায়।”
