Hashtagintro

পুজোতেও মিলবে না ছুটি ডাক্তারদের! অন্তঃসত্ত্বাদের কথা ভেবে নির্দেশিকা জারি

পুজোর ছুটিতে ডাক্তার নেই! এমন ‘অভিযোগ’ ঠেকাতে কড়া স্বাস্থ‌্য দপ্তর। পুজোর মধ্যে মা হতে চলেছেন যাঁরা তাদের জন‌্য হাসপাতালের পরিষেবা আরও ত্রুটিহীন আর জোরালে করতে নয়া নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ‌্য দপ্তর। সেই নির্দেশিকা মানা হচ্ছে কিনা তা দেখতে যখন তখন সারপ্রাইজ ভিজিটে যাবেন সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের সুপার, স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বা জেলার মুখ‌্য স্বাস্থ‌্য আধিকারিক।

কী রয়েছে নির্দেশিকায়? মেডিক‌্যাল কলেজের ক্ষেত্রে সিজার ডেলিভারির সময় হাজির থাকতে হবে স্ত্রীরোগ বিভাগের ফ‌্যাকাল্টি মেম্বারকে। অন‌্যান‌্য সরকারি স্বাস্থ‌্যকেন্দ্রের ক্ষেত্রে উপস্থিত থাকতে হবে মেডিক‌্যাল অফিসারকে। স্বাস্থ‌্যদপ্তর জানিয়েছে, পুজোর ছুটিতে ডিউটি রোস্টার এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন কোনওসময় লোকবল কম না থাকে। ডিউটি রোস্টার যিনি তৈরি করছেন তার নাম, পদাধিকার, যোগাযোগের বিবরণ লেখা থাকতে হবে স্পষ্ট করে। লোকবলে কোনওরকম অভাব দেখা গেলে তাকেই ধরবে স্বাস্থ‌্যদপ্তর। ডিউটি রোস্টার শুধু হাসপাতালে নয়, তার কপি দিতে হবে জেলা মুখ‌্য স্বাস্থ‌্য আধিকারিককেও। বিশেষ নির্দেশিকা জারি হয়েছে ঝুঁকি সম্পন্ন অন্তঃসত্ত্বাদের জন‌্য। ‘হাইরিস্ক প্রেগন‌্যান্সির’ ক্ষেত্রে ঝুঁকিসম্পন্ন অন্তঃসত্ত্বাদের তালিকা আগেই তৈরি করতে বলা হয়েছে জেলা এবং স্বাস্থ‌্যকেন্দ্রগুলিকে। ডেলিভারি ডেট পর্যন্ত অপেক্ষা নয়, প্রত‌্যন্ত গ্রামে সময়ের আগেই তাদের প্রসবকেন্দ্রে নিয়ে আসার জন‌্য তৈরি থাকতে হবে ফিল্ড ওয়াকার্রদের।

শুধু সন্তান প্রসব নয়, প্রসব পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস‌্যা, সেপসিস সহ যে কোনও ঝুঁকির মোকাবিলা করতে প্রতিটি হাসপাতালে তৈরি রাখতে হবে বিশেষ টিম। কোনওরকম জটিলতা দেখা দিলে উচ্চতর পরিকাঠামোয় চিকিৎসা শুরু করতে হবে সঙ্গে সঙ্গে। প্রতিটি হাসপাতালকে নির্দেশ, তাদের সিক নিওনেটাল কেয়ার ইউনিটকে মজবুত রাখতে হবে। প্রসুতি চিকিৎসায় অত‌্যাবশকীয় ওষুধ মজুত রাখতে হবে সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ‌্যকেন্দ্র, মেডিক‌্যাল কলেজগুলিতে। আসন্ন পুজোর মরশুমে ওষুধের যোগান যাতে কখনওই বিঘ্নিত না হয় তার জন‌্য তৈরি রাখতে বলা হয়েছে ‘বাফার স্টক।’

পুজোর মরশুমে সপ্তাহে সাতদিন চব্বিশ ঘণ্টা সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ‌্যকেন্দ্রের ল‌্যাবরেটরি, ডায়গনস্টিক সেন্টার সচল রাখতে বলা হয়েছে নির্দেশিকায়। মজুত রাখতে হবে পর্যাপ্ত রক্ত। প্রতিটি হাসপাতালের নিকটস্থ ব্লাড ব‌্যাঙ্ককেও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ‌্য দপ্তর। প্রসূতির রক্তের প্রয়োজন হলে যেন কখনওই ঘাটতি না হয়। তৈরি রাখতে হবে অ‌্যাম্বুল‌্যান্সও। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিনামূল্যের অ‌্যাম্বুল‌্যান্স পরিবহণ ব‌্যবস্থা নিশ্চয় ভ‌্যানকে তৈরি রাখতে বলা হয়েছে। গ্রামীণ স্বাস্থ‌্যকেন্দ্রের ক্ষেত্রে নির্দেশ, শহরের হাসপাতালে প্রসূতির আকস্মিক রেফার করে দায়সারা যাবে না। যেখানে রেফার করা হচ্ছে সেখানে বেড খালি রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে ওই স্বাস্থ‌্যকেন্দ্রকে। প্রত‌্যন্ত গ্রামে যাঁরা রয়েছেন তাদের ডেলিভারি ডেটের আগেই নিয়ে এনে রাখতে হবে হাসপাতালের নিকটস্থ ‘ওয়েটিং হাটে।’ কড়া মনিটরিংয়ের মধ্যে। শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলির দিকেও কড়া নজর রেখেছে স্বাস্থ‌্যদপ্তর। প্রতিটি জেলার মুখ‌্য স্বাস্থ‌্য আধিকারিকের কাছে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বেসরকারি স্বাস্থ‌্য কেন্দ্রেগুলিতে পর্যাপ্ত এবং দক্ষ জনবল আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে জেলার মুখ‌্য স্বাস্থ‌্য আধিকারিককে।

নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিটি হাসপাতালে স্বাস্থ‌্যকেন্দ্রে স্ত্রীরোগের চিকিৎসক, অ‌্যানাস্থেশিস্ট, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ নার্স-সহ পর্যাপ্ত জনবল প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রতিটি মেডিক‌্যাল কলেজে অ‌্যাসিস্ট‌্যান্ট প্রফেসর এবং তার উচ্চতর পদমর্যাদার ফ‌্যাকাল্টি সদস‌্যদের হাজির থাকতে হবে সন্তান প্রসবের সময়। জেলা হাসপাতাল, সাবডিভিশনাল হাসপাতাল, স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সবসময় উপস্থিত থাকতে হবে সিনিয়র গাইনোকলজিস্টকে। কোনও প্রসুতির মৃত‌্যু হলে সেই মৃত‌্যুর কারণ যথাযথভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ‌্যকেন্দ্রে তৈরি করা হয়েছে ম‌্যাটারনাল ডেথ সারভিলেন্স অ‌্যান্ড রেসপন্স মেকানিজম। সেই টিম পর্যালোচনা করবে মৃত‌্যুর কারণ।

Source: Sangbad Pratidin Business (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Business (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language