সচরাচর এরকম ফুটবল উৎসবের পরশ গায়ে মেখে নেওয়ার সুযোগ খুব একটা আসে না। ব্রাজিল-উরুগুয়ের আবহের মধ্যেই হাজির বাঙালির বড় আপন ডার্বি। আর এই মরশুমের ডার্বির যা পরিসংখ্যান, তাতে আপাতত জেতা-হারার মানদন্ডে দুটো দলই সমান অবস্থানে রয়েছে। কলকাতা লিগে ড্র করা ছাড়া, ডুরান্ডে একবার জিতেছে মোহনবাগান। আরেকবার ইস্টবেঙ্গল।
তবে ডুরান্ড ফাইনালে ৪-১ গোলে হারের ধাক্কাটা মোহনবাগানকে এতটাই ক্ষতবিক্ষত করেছে যে, সেই জায়গা থেকে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের ফিরে আসার রাস্তা একটাই, বড় ব্যবধানে জয়। কিন্তু শিল্ড সেমিতে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের সাম্প্রতিক ৭ গোলের সাফল্যর পাশাপাশি, মোহনবাগানের কোনওমতে বিশাল কাইথের ‘বিশাল’ হাত ধরে ফাইনালে ওঠা ভীষণই ম্রিয়মান। ফলে বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে ফাইনাল ম্যাচের আগে কিছুটা হলেও সবুজ-মেরুন সমর্থকরা ঝিমিয়ে রয়েছেন। এর একটাই কারণ, দিলেমপেরিসের কোচিংয়ে মোহনবাগানের সাম্প্রতিক ফর্ম। তার মানে কি ১২৬তম শিল্ড ফাইনালে সত্যিই ফেভারিট ইস্টবেঙ্গল? বিশ্বাস করুন, এভাবে কিছুতেই বলা ঠিক হবে না।
কারণ, ইতিহাস বলছে, এরকম পরিস্থিতি থেকে খেলতে নেমে বারবার উলটো ফল হয়েছে খেলার দিন। সেমিফাইনাল বা গ্রুপ লিগের ম্যাচে কোন দল কী ফল করেছে, তার সঙ্গে বৃহস্পতিবার ফাইনাল ম্যাচের কোনও সম্পর্ক নেই। পানামা, ব্রাজিল, উরুগুয়ের মতো বিশ্বকাপে খেলা দলের বিরুদ্ধে জাতীয় দলের হয়ে খেলার পর মোহনবাগানে যেরকম যোগ দিয়েছেন, অনিরুদ্ধ থাপা, মনবীর, আপুইয়া, অভিষেক সিংরা। সেরকম ইস্টবেঙ্গলেও যোগ দিয়েছেন গিল, জয় গুপ্তা, এডমুন্ড, আনোয়াররা। যোগ দিলে হবে কী। আদৌ কি জাতীয় দল ফেরত ফুটবলাররা বৃহস্পতিবারের শিল্ড ফাইনালে মাঠে নামবেন? বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গল কোচের নাম যখন আন্তেনিও লোপেজ হাবাস?
হাবাস সেই গোত্রীয় কোচ, যাঁর কাছে নাম নয়। ম্যচের দিনে যে ফুটবলারকে বেশি দরকার, ফিটনেস এবার পারিপার্শিক বিষয় বিবেচনা করে সেটাই করেন। যেমন, জাতীয় দলের হয়ে তিনটে ম্যাচ টানা খেলার জন্য এদিন আনোয়ারকে অনুশীলনই করালেন না হাবাস। খেলাবেন কি না, সেটাই ঠিক নেই। গিলকেও গোলের নীচে রাখবেন কি না ঠিক করতে পারেননি ইস্টবেঙ্গল কোচ। পাশাপাশি, চোটের জন্য ম্যাকলারেন ফাইনালে নেই। আপুইয়া, অভিষেক, অনিরুদ্ধরাও প্র্যাকটিস করলেন না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে ফাইনালে দিলেমপেরিস জাতীয় দলের ফুটবলারদের খেলাবেন না। বৃহস্পতিবার সম্পূর্ণ অন্য লড়াই। অন্য ম্যাচ। যেখানে শিল্ড সেমিফাইনালের কোনও ফলাফলই প্রভাব ফেলবে না।