পুরুষের শরীরে মিলল জরায়ু ও ডিম্বনালি। হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে চোখ কপালে চিকিৎসকদের। জানা গিয়েছে, ওই রোগীর শরীরে অণ্ডকোষও পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাটিকে বিরল থেকে বিরলতম বলেই দাবি করছেন চিকিৎসকরা।
ওই যুবক বজবজের বাসিন্দা। গত সোমবার ডায়মন্ড হারবার এলাকার নার্সিংহোমে যান। পরদিনই তাঁর অস্ত্রোপচার করার কথা স্থির হয়। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকরা দেখেন, ওই যুবকের শরীরে রয়েছে জরায়ু এবং ডিম্বনালি। এই দুই অঙ্গই নারীদেহে থাকে। সন্তানধারণের জন্য মহিলাদের দেহে একজোড়া নলের মতো অঙ্গ থাকে। যার মাধ্যমে ডিম্বাশয় থেকে নির্গত ডিম্বাণু জরায়ুতে পৌঁছয়। অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক এইচ জামান বলেন, “আমরা পুরুষ শরীরে জরায়ু, ডিম্বনালি দেখে স্বাভাবিকভাবেই অবাক হয়ে যাই। পুরষ নাকি নারী, সে ধন্দ কাটাতে ক্রোমোজোম স্টাডিও করানোর কথা ভাবা হচ্ছে।”
পুরুষ দেহে জরায়ু ও ডিম্বনালি থাকাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে ‘সিউডোহেরম্যাফ্রোডিটিজম।’ চিকিৎসকদের মতে, কাউকে দেখতে পুরুষের মতো হলেও জিনগত কিংবা প্রজননগত ক্ষেত্রে নারী হতে পারেন। যদিও এটি অত্যন্ত বিরল অবস্থা বলেই মত চিকিৎসকদের। তাঁদের মতে, হরমোনের অস্বাভাবিকতা, ভ্রূণের বিকাশের সময় অ্যান্ড্রোজেনের প্রভাবে এমন পুরুষ শরীরে জরায়ু ও ডিম্বনালি দেখা যেতে পারে।চিকিৎসকদের মতে, অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রাতিরিক্ত প্রভাবে ক্লিটোরিস স্বাভাবিকের তুলনায় বড় আকারের হয়। যা পুরুষাঙ্গের মতো দেখতে হয়। অথচ অণ্ডকোষ থাকে না।
এক্ষেত্রেও বজবজের ওই যুবকের অণ্ডকোষ রয়েছে কিনা পরীক্ষা করে দেখা হয়। তবে চিকিৎসকদের দাবি, তাঁর অণ্ডকোষ ছিল না। চিকিৎসকদের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮ বছর আগে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে যুবকের শরীরে জরায়ু এবং ডিম্বনালি পাওয়া গিয়েছিল। এমন বিরল পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রথমে রোগীকে জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি পুরুষ নাকি নারীর জীবন বেছে নেবেন। সেই অনুযায়ী, প্রথমে কাউন্সেলিং করা হয়। পরে প্লাস্টিক সার্জারির সাহায্যে ধাপে ধাপে চিকিৎসা এগোতে থাকে।
