জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দিনভর ধরনা দিলেন। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করলেন। দিনের শেষে আটক হলেন। অথচ এতকিছুর পর নিজেদের জোট শরিকদের মনও জিততে পারলেন না গান্ধীরা। সূত্রের দাবি, যেভাবে অন্য শরিকদের অন্ধকারে রেখে প্রিয়াঙ্কারা ধরনা দিয়েছেন, যেভাবে প্রচারের পুরো আলোটা তাঁরা কেড়ে নিয়েছেন তাতে অখুশি ইন্ডি জোটের একাধিক শরিক দল।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে ইন্ডি জোটের কর্মসূচিতে ধরনা ছিল না। এমনকী জ্ঞানেশ কুমারের সাক্ষাৎ চাওয়া হবে, এমনটাও ঠিক ছিল না। পুরো বিষয়টিতেই শরিকদের অন্ধকারে রেখেছিল কংগ্রেস। যা নিয়ে জোটের একাধিক সিনিয়র নেতা কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ইন্ডি জোটের শরিকদের বক্তব্য, মঙ্গলবারের ওই কর্মসূচি ছিল ইন্ডিয়া জোটের। কিন্তু কংগ্রেস নেতারা যেভাবে সেটাকে কংগ্রেসের কর্মসূচি বানিয়ে দিল, সেটা সমর্থনযোগ্য নয়। এক সিনিয়র নেতা কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে প্রশ্ন করছেন, “এভাবে কেন জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করার দাবি জানানো হল? যার ইস্তফা আমরাই দাবি করছি, তাঁর সঙ্গেই দেখা করার দাবি কেন জানানো হচ্ছে। আগে যদি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা হত, তাহলে আমরা রাজিই হতাম না।”
রাহুলরা যখন বিক্ষোভের সাফল্য নিয়ে বুক বাজাচ্ছেন, তখন শরিকদের এই অবস্থান খানিকটা হলেও অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে কংগ্রেসকে। শেষে আসরে নেমেছেন কে সি বেণূগোপাল। তিনি শরিকদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, মঙ্গলবার যে বিক্ষোভ হয়েছে, সেটা অকস্মাৎ ঠিক করা। আগে থেকে ঠিক করা ছিল না। ঘটনাস্থলে বসেই রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সিদ্ধান্ত নেন। আসলে রাহুল আকাশবাণী ভবনে ঢুকে পিছনের দরজা দিয়ে নির্বাচন কমিশনেই যেতে চেয়েছিলেন। সেই রাস্তা পুলিশ বন্ধ করে দেওয়ায় তিনি ধরনায় বসতে বাধ্য হন। এই ভুল বোঝাবুঝির জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশও করেছেন বলে খবর।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে মঙ্গলবারের পর বুধবারও যৌথ কর্মসূচি নিয়েছে ইন্ডিয়া শিবির। এদিন দুপুরে মল্লিকার্জুন খাড়গে ইন্ডি জোটের নেতাদের মধ্যাহ্নভোজনে আমন্ত্রণ জানান। তারপরই তাঁরা চলে যান যন্তর মন্তর অভিযানে। যদিও সেখানে ধরনার অনুমতি পুলিশ দেয়নি। বুধবারের এই কর্মসূচিতে সমন্বয়ের কোনও অভাব চোখে পড়েনি।
