গোড়া থেকেই আলোচনা-সমালোচনায় প্রভাস অভিনীত ‘ফৌজি’। এবার নেতাজিকে অপমানের অভিযোগে বিতর্কের শিরোনামে নাম লেখাল মেগাবাজেট এই ছবি। প্রভাসের ‘ফৌজি’র ঝলকে নাৎসি সর্বাধিনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে সুভাষচন্দ্র বসুর সাক্ষাতের দৃশ্য নিয়ে দিন দুয়েক আগেই আপত্তি তুলে নির্মাতাদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্রকুমার বসু। তাঁর অভিযোগ, ঐতিহাসিক তথ্য বিকৃতি করে দেশের বীরসন্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে ‘ফৌজি’তে। এবার সেন্সর বোর্ডকে দুষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে চিঠি পাঠালেন চন্দ্র বসু।
সেন্সর বোর্ডের যে সদস্যরা ‘ফৌজি’কে ছাড়পত্র দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন চন্দ্র বসু।
কেন্দ্রকে পাঠানো চিঠিতে নেতাজির প্রপৌত্র তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সহ-সভাপতি দাবি জানিয়েছেন, সমস্ত সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি থেকে যেন অবিলম্বে ‘ফৌজি’র টিজার সরিয়ে ফেলা হয়। কারণ এই ছবিতে নেতাজির চরিত্রকে যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে,তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ, “নেতাজিকে এভাবে তুচ্ছ করার বিষয়টি আমরা অত্যন্ত আপত্তিকর বলেই মনে করছি। সেন্সর বোর্ড কীভাবে এমন আপত্তিকর বিষয়বস্তুকে ছাড়পত্র দিল, তা আমাদের বোধগম্য নয়।” এখানেই অবশ্য শেষ নয়। সেন্সর বোর্ডের যে সদস্যরা ‘ফৌজি’কে ছাড়পত্র দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন চন্দ্র বসু।

ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ট্যাগ করে চন্দ্র বসুর মন্তব্য, ‘কলাকুশলীদের প্রতি আমার কোনও রাগ-বিদ্বেষ নেই, তবে ঐতিহাসিক তথ্যকে অগ্রাধিকার দিতেই হবে।’
চিঠির একটি অনুলিপি এক্স হ্যান্ডেলে ভাগ করে নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আপনাদের কাছে এই গুরুতর বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি। তদন্ত হোক। সেন্সর বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে তবেই তা দেশের প্রতি ন্যায্য বিচার করা হবে।’ পাশাপাশি ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ট্যাগ করে চন্দ্র বসুর মন্তব্য, ‘কলাকুশলীদের প্রতি আমার কোনও রাগ-বিদ্বেষ নেই, তবে ঐতিহাসিক তথ্যকে অগ্রাধিকার দিতেই হবে।’ তাঁর দাবি, এহেন ভুল শুধরে যেন ‘ফৌজি’র নতুন টিজার রিলিজ করেন তাঁরা।
গত ২৩ অক্টোবর, প্রভাসের জন্মদিনে এই পিরিয়ড ওয়ার-অ্যাকশন ড্রামার ঝলক প্রকাশের পরই বিতর্ক দানা বাঁধে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অবলম্বনে তৈরি ‘ফৌজি’র ঝলকে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভূমিকা এবং হিটলারের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকে যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা নিয়েই আপত্তি উঠেছে দেশের সর্বস্তরে। নেটভুবনেও সমালোচনার ঝড়। রাজনৈতিকমহলেও চাপানোতর! টিজার দেখে একাংশ মামলা দায়েরের দাবিও তুলেছেন। এমন আবহেই সংবাদসংস্থা আইএএনএস-এর সঙ্গে কথোপকথনে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন চন্দ্র কুমার বসু। তাঁর মন্তব্য, “জাতীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কাজ করার সময় তথ্য বিকৃত করা এবং কাল্পনিক গল্প বলাকে আমি অপরাধ বলেই মনে করি।” তাঁর অভিযোগ, সিনেমাটিতে হিটলারের সঙ্গে নেতাজির কথোপকথন নিয়ে একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা স্বাধীনতা সংগ্রামী সুভাষ চন্দ্র বসুর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে। চন্দ্রকুমারের বক্তব্য, “নেতাজি ফ্যাসিবাদের ঘোর বিরোধী ছিলেন এবং গণতন্ত্র ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারে বিশ্বাস করতেন।”
