কথায় আছে, ‘পিরিতি কাঁঠালের আঠা/লাগলে পড়ে ছাড়ে না’। বাংলার প্রাচীন প্রবাদটি একেবারে অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হয়ে গেল থাইল্যান্ডের তরুণীর জীবনে। তোলপাড় হয়ে গেল তাঁর জীবন। প্রেমে পড়ে ভারতীয় যুবককে বিয়ে করেছিলেন। দাম্পত্য জীবন শুরু হতে না হতেই প্রথমে আর্থিক প্রতারণার শিকার, টাকা ফেরত চাইতে ধর্মবদলে চাপ দেওয়ার অভিযোগ। এরপর স্বামীর বাড়িতে আসতেই হৃদয় ভাঙল থাইল্যান্ডের তরুণীর। দেখলেন, স্ত্রী, সন্তান নিয়ে দিব্যি সুখে রয়েছেন স্বামী! বুঝলেন, তিনি ডাহা ঠকে গিয়েছেন। বিদেশি যুবতীর এহেন দুর্দশার কথা শুনে অবশ্য পাশে দাঁড়িয়েছে কানপুরের পুলিশ। ‘প্রতারক’ স্বামী ইরফানকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রেমের জালে জড়িয়ে জীবনে এত বড় ধাক্কা খাবেন, তা বোধহয় দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি থাইল্যান্ডের তরুণী উপসার্ন। দিব্যি নিজের দেশে নিজের রেস্তরাঁ খুলে ব্যবসা জমিয়েছিলেন। মোটের উপর সফল উদ্যোগপতি হিসেবে কাটছিল জীবন। এমন সময়ে সোশাল মিডিয়ায় কানপুরের যুবক ইরফানের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় তাঁর। ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

একসময়ে প্রেম এতটাই জমে যায় যে বছর দুই আগে থাইল্যান্ড ছুটে যান ইরফান। বিয়ের প্রস্তাব দেন উপসার্নকে। প্রেমের জোয়ারে বাঁধা পড়েন দু’জন। বিয়ের কয়েকদিন পর ইরফান নিজের ব্যবসা করবেন বলে নববিবাহিত স্ত্রীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে বেশ কিছু টাকা ধার নিয়ে ফিরে আসেন কানপুরে। উপসার্ন চাইছিলেন, দু’জনে একসঙ্গে থাকতে। থাইল্যান্ড ছেড়ে কানপুরে চলে আসতে চান। তাতে প্রথমে রাজি হচ্ছিলেন না ইরফান। কিন্তু জোর করেই থাই তরুণী চলে আসেন স্বামীর বাড়িতে। এরপরই কাহানি মে টুইস্ট!
উপসার্ন জানতে পারেন, ইরফানের ১২ বছরের বিবাহিত জীবন, রয়েছে সন্তানরাও। তাহলে কেন এই বিয়ে গোপন করে তাঁকে বিয়ে? অভিযোগ, এই প্রশ্ন করতেই উপসার্নের উপর নেমে আসে অত্যাচার। ইরফান সাফ তাঁকে জানান, একসঙ্গে থাকতে হলে ধর্ম বদলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে হবে, বোরখা পরে থাকতে হবে। সেইসঙ্গে চলে মারধরও। ততদিনে উপসার্ন হিসেব করে দেখেন, ইরফান ব্যবসার নামে তাঁর কাছ থেকে একে একে ৬০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আর সহ্য করতে না পেরে সোজা পুলিশের দ্বারস্থ হন থাইল্যান্ডের তরুণী।
পুলিশ সব শুনে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্তে নামে। বিদেশিনীকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে, ধর্মবদলে চাপ, আর্থিক প্রতারণা – একগুচ্ছ অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। ইরফানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোশাল মিডিয়ায় নিজের জীবনের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন উপসার্ন। আপাতত তিনি পুলিশি নিরাপত্তায় রয়েছেন।
