ফের সিকিমে ভূমিকম্প। সোমবার ভোরে কেঁপে ওঠে পশ্চিম সিকিম ও সংলগ্ন নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। ১৭ অক্টোবর থেকে ১৬ বার মৃদু ভূমিকম্পের কবলে সিকিম। পাহাড়ি রাজ্যে বারবার ভূমিকম্প বড় কোনও বিপর্যয়ের ইঙ্গিত নয় তো? কম্পন মৃদু হলেও এদিনের ঘটনার পর ফের প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি এবং আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী সোমবার ভোর ৬টা ২৮ মিনিটে পশ্চিম সিকিমে যে ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে সেটির তীব্রতা ছিল ৩.৩। উৎসস্থল পশ্চিম সিকিমের ইউকসোম থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে নেপাল সীমান্তের কাছে। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎপত্তি হয়। তীব্রতা কম থাকায় এই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে যথেষ্ট আতঙ্ক ছিল।
তথ্য বলছে, ১৭ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ৯ দিনে ১৬ বার ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে। এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে ১৩ বার ভূমিকম্প নথিভুক্ত হয়েছে সিকিমে। কিন্তু প্রতিটি কম্পন মৃদু হওয়ায় তেমনভাবে কেউ গুরুত্ব দেননি। যদিও ভূ-গবেষকদের একাংশ এই ঘটনাকে অশনিসংকেত বলেই মনে করছেন। যেমন, চোপড়া কলেজের অধ্যক্ষ তথা ভূ-গবেষক মধুসূদন কর্মকার বলেন, “সিকিমে ধারাবাহিক ভূমিকম্প মোটেও সাধারণ বিষয় নয়। রীতিমতো অশনিসংকেত। কারণ, পুরো হিমালয় অঞ্চল ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোন সিক্স-এ রয়েছে। হিমালয় ও তার পাদদেশ ইন্ডিয়ান প্লেটের উপর রয়েছে। এর ঠিক বিপরীতে রয়েছে ইউরেশিয়ান প্লেট। প্রতি বছর ইন্ডিয়ান প্লেট পাঁচ সেন্টিমিটার করে উত্তরে ইউরেশিয়ান প্লেটকে ঠেলছে। ওই ধাক্কার ফলে বিপদ ঘনীভূত হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) সমীক্ষায় দেশের নতুন আপডেট সিসমিক জোনেশন ম্যাপে দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং সিকিমের সমস্ত জেলা সহ পুরো হিমালয় অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোন সিক্স-এ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে রিখটার স্কেলে ৮ থেকে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চোপড়া কলেজের অধ্যক্ষ তথা ভূ-গবেষক জানান, শুধু সিকিম নয়। দার্জিলিং পাহাড়ে প্রতি বছর গড়ে ২৩টি ভূমিকম্প হয়। প্রায় প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ বছর অন্তর ভয়াবহ ভূমিকম্প ঘটে।
ভূ-গর্ভস্থ ইন্ডিয়ান প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষ বেড়ে চলায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়েছে। যে কারণে বিআইএস-এর সমীক্ষায় দেশের নতুন আপডেট সিসমিক জোনেশন ম্যাপে পুরো হিমালয় অঞ্চল সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোন সিক্স-এ উঠে এসেছে। ১৯৬২ সালে প্রথম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা নিয়ে ম্যাপিং করেছিল বিআইএস। মোট পাচটি বিভাগে ওই সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই সময় দার্জিলিং থেকে সিকিম সিসমিক জোন ফোর-এ ছিল। অর্থাৎ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর বিআইএস মোট ছয়টি ভাগে ওই সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে দেখা গিয়েছে হিমালয় ও সংলগ্ন এলাকার পুরোটাই বিপজ্জনক। অর্থাৎ সিসমিক জোন সিক্সে-এ দাঁড়িয়ে আছে।
Source: Sangbad Pratidin India (Bengali)
