‘বড়লোকের বিটি লো লম্বা লম্বা চুল…’- বাংলায় এমন শ্রোতা খুঁজে পাওয়া দায়, যে বা যাঁরা এই লোকসঙ্গীত শোনেননি। কিন্তু কুড়ি সালের আগে অনেকেই হয়তো জানতেন না যে, এই গানের নেপথ্যে কে? কারণ এই লোকগীতি স্বপ্না চক্রবর্তীর কণ্ঠেই মূলত জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। ১৯৭২ সালে যে গান লিখেছিলেন বীরভূমের রতন কাহার। গায়িকা পরিচিতি পেলেও তিনি কিন্তু প্রচারের আলোর বাইরেই রয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অতিমারী অধ্যায়ে রতন কাহারের ‘বড় লোকের বিটি লো’ গানটির আদলে ‘গেন্দা ফুল’ গেয়ে রোষানলে পড়েছিলেন র্যাপার বাদশা। সেই বিতর্ক মিটলেও এবার ফের একবার সংশ্লিষ্ট লোকসঙ্গীত বিকৃতির অভিযোগ উঠেছে। যার জেরে সাইবার সেলে অভিযোগ করতে বাধ্য হলেন ‘পদ্মশ্রী’ শিল্পী রতন কাহার।

অভিযোগ, সোশাল মিডিয়ার একটি পেজ থেকে ‘বড়লোকের বিটি লো’ গানটিকে বিকৃতি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই লোকসঙ্গীতের স্রষ্টা রতন কাহারের নাম অবধি উল্লেখ করা হয়নি সংশ্লিষ্ট পেজে। আর তার বিরুদ্ধেই সোচ্চার হয়েছেন রতন কাহার এবং তাঁর পুত্র দেবাশিস কাহার। যদিও কে বা কারা এই গান বিকৃতির নেপথ্যে? সেই উত্তর এখনও অধরা। তবে জনপ্রিয় এই লোকগীতি বিকৃত করায় শিল্পী ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলেই খবর।
১৯৭২ সালে তাঁর গান প্রথম রেকর্ড হয় রেডিওতে। জানা যায়, পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন ৭৭ টাকা ১৫ পয়সা। টুসু, ঝুমুর গানে সিদ্ধহস্ত রতন কাহার এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৫০ গান লিখেছেন। প্রায় সব গানই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে রতন কাহারের লেখা অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘বড়লোকের বেটি লো’।
শিল্পী রতন কাহার বীরভূমের সিউড়ির বাসিন্দা। ভাদু গান গেয়েই পথ চলা শুরু। ১৯৭২ সালে তাঁর গান প্রথম রেকর্ড হয় রেডিওতে। জানা যায়, পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন ৭৭ টাকা ১৫ পয়সা। টুসু, ঝুমুর গানে সিদ্ধহস্ত রতন কাহার এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৫০ গান লিখেছেন। প্রায় সব গানই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে রতন কাহারের লেখা অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘বড়লোকের বেটি লো’। এমন গুণী ব্যক্তির সঙ্গী নিত্য অভাব। এককালে দু’মুঠো ভাত জোগাড় করার জন্যে বিঁড়ি বেঁধে সংসার চালাতেন। এখন ভরসা বলতে, এদিক-ওদিক দু’-চারটে অনুষ্ঠান, আর যৎসামান্য সরকারি ভাতা। এই গানের আদলেই ঝকঝকে গানের মিউজিক ভিডিও করেছিলেন বাদশা। যেখানে নেচেছিলেন জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ। বাদশার এই রিমেক্স নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। তবে বাদশা কিন্তু ক্ষমা চেয়ে রয়্যালটির ৫ লক্ষ টাকা শুধু রতনের হাতে তুলেই দেননি বরং বীরভূমে এসে দেখাও করে গিয়েছেন বাংলার এই লোকশিল্পীর সঙ্গে।
