৯/১১-এর মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হতে পারত। মৃত্যু হতে পারত শয়ে শয়ে মানুষের। কিন্তু প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন ফ্লাই দুবাই উড়ানের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। বিমানের ককপিটে জঙ্গি হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। ধারাল ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত হন স্মিত, মাথা ফাটে। এবার জানা গেল, দুবাইয়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভারতীয় পাইলটের মাথায় জরুরি অস্ত্রপচার করতে হয়।
সূত্রের খবর, হামলার সময় স্মিতের মাথার খুলির একাংশ ভেঙে বিপজ্জনকভাবে মস্তিষ্কের ভিতরে ঢুকে গিয়েছিল। আরব আমিরশাহীতে নিয়ে যাওয়ার আগেই সৌদি আরবে তড়িঘড়ি অস্ত্রপচারে মাথার খুলি পুনর্গঠন করেন চিকিৎসকরা। এরপরেও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন স্মিত। এখনও পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। এছাড়াও ভারতীয় পাইলটের হাত-পা, বুক এবং পেটের উপরের অংশে আঘাত লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও তাঁর শরীর ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন আরব আমিরশাহীর সেনা হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
উল্লেখ্য, উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সপ্তাহেই তাঁকে বিমানে সৌদি আরব থেকে আরব আমিরশাহীতে আনা হয়। চিকিৎসকদের অনুমতিতে পরিবারের লোকেরাও দেখা করছেন স্মিতের সঙ্গে। নিয়মিত হেল্থ বুলেটিনে ভারতীয় পাইলটের স্বাস্থ্যের খবর দিচ্ছে আমিরশাহীর সেনা হাসপাতাল।
শুক্রবার ‘বীর’ স্মিতের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘আপনার কাজে দেশ গর্বিত, যখন প্রয়োজন একটি ফোন করুন’, বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। পালটা চোখের জলে ভাসেন ভারতীয় পাইলট। কঠিন পরিস্থিতিতে যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি, সেকথা মনে করিয়ে প্রশংসায় ভরান মোদি। পাশাপাশি ভারতীয় পাইলটের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। সংক্ষিপ্ত কথোপকথনে মোদি বলেন, “আপনার অসীম সাহসের কাজে দেশ গর্বিত।” পালটা স্মিত বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি যে আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারব।” প্রত্যুত্তরে মোদি বলেন, “আমার কাছে আপনি আবেগপ্রবণ হবেন না তো কোথায় হবেন!”
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় ৩৯ বছরের স্মিত আরও জানান, যখনই তিনি কোনও বিপদে পড়েন, তখনই হনুমান চালিশা পাঠ করেন। বুধবার বিমানে হামলার সময়েও তিনি হনুমান চালিশা পাঠ করছিলেন। মোদি জানান, তিনি পাইলটের মা গীতার সঙ্গেও কথা বলেছেন। জেনেছেন মা তাঁকে ভগবৎ গীতার মূল্যবোধ ও শিক্ষা দিয়ে বড় করেছে। স্মিতকে তিনি আরও বলেন, “দেশ গর্বের সঙ্গে এ কথা বলতে পারে যে ভারতীয়রা অন্যের প্রাণ কেড়ে নেন না, বরং অন্যিদের জীবন বাঁচাতে নিজেদের জীবন বিপন্ন করতেও প্রস্তুত থাকেন।”
