ক্রিকেটার হিসাবে রনজি ট্রফি জিতেছেন। একটা সময় বাংলা কোচের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর কোচিংয়ে বাংলা রনজি ফাইনাল খেলেছিল। সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফাইনালে হেরে গিয়েছিলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। বাংলা ক্রিকেটে আবার প্রত্যাবর্তন হচ্ছে অরুণ লালের। তবে এবার বাংলার ‘লালজি’ ফিরছেন অন্য ভূমিকায়।
তাঁকে ডিরেক্টর অফ ক্রিকেটের দায়িত্ব দিচ্ছে সিএবি। বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই অরুণ লালকে নিয়ে সিএবিতে আলোচনা শুরু হয়েছিল। শোনা যাচ্ছিল, তাঁকে নতুন দায়িত্বে নিয়ে আসা হতে পারে। অবশেষে সেটাই হয়েছে। বাংলার প্রাক্তন কোচকে এবার ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট করা হল। যা খবর, তাতে সরকারিভাবে চুক্তি এখনও হয়নি। প্রাথমিক আলোচনা সারা হয়ে গিয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে সরকারিভাবে ঘোষণাও করে দেওয়া হবে। অরুণ লালকে যে নিয়ে আসা হচ্ছে, সেটা সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ‘সংবাদ প্রতিদিন’-কে জানিয়েছেন।
এর আগে যেমন শুধু সিনিয়র টিমের কোচিং করিয়েছিলেন, এবার অবশ্য সেটা হচ্ছে না। বাংলার প্রত্যেক টিমের সঙ্গেই যুক্ত থাকবেন অরুণ। সব টিমের সঙ্গে কাজ করবেন তিনি। শোনা গেল, কোনও টুর্নামেন্টের আগে কীভাবে পরিকল্পনা করা হবে, সেসব নিয়েও আলোচনা করবেন তিনি। আসল ব্যাপার হল, সব কোচের মাথার উপরে নিয়ে আসা হচ্ছে অরুণ লালকে। প্রত্যেক দলের পারফরম্যান্সের উপর নজর রাখবেন তিনি।
বাংলা ক্রিকেটে অরুণ লালের অবদান আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। বাংলার হয়ে কোচিংয়ের শুরুটা বেশ ভালোভাবে হয়েছিল। তবে কোচিংয়ের শেষপর্বটা অবশ্য একেবারেই মধুর ছিল না। বেশ কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার তাঁর কোচিং পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। যাঁদের মধ্যে আবার কেউ কেউ বর্তমানে বাংলা ক্রিকেটের কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সব কোচেদের কাছে কতটা তিনি গ্রহণযোগ্য হবেন, সেটা নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
দিন কয়েক পরই ঘরোয়া মরশুম শুরু হয়ে যাচ্ছে। ১১ অক্টোবর থেকে রনজি অভিযান শুরু করবে বাংলা। কল্যাণীতে প্রতিপক্ষ দিল্লি। এবার অবশ্য রনজির আগে প্রস্তুতি বেশ ভালো হয়েছে টিমের। লক্ষ্মীরতন শুক্লার কোচিংয়ে সিয়েচেম ট্রফি জিতেছে দল। গুয়াহাটিতে অসমের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচও বেশ ভালো গিয়েছে বাংলার। ব্যাটাররা সবাই রান করেছেন। অনূর্ধ্ব তেইশ দলও ঘরোয়া মরশুম শুরু করবে ১২ অক্টোবর। ম্যাচ সল্টলেকের যাদবপুর ক্যাম্পাসের মাঠে। শোনা গেল, ওই দু’টো ম্যাচেই মাঠে থাকতে পারেন অরুণ।