ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে না তো আমেরিকার তরফে পাক-সন্ত্রাসে তর্জনী উঠেছে, না কোনও বাণিজ্যিক সুবিধা পেয়েছে ভারত।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দ্বিতীয়বারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেন তখন নয়াদিল্লিতে স্বস্তির হাওয়া বয়ে গিয়েছিল। ধরে নেওয়া হয়েছিল যে ট্রাম্প জমানায় ভারত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে খুবই সুবিধাজনক জায়গায় থাকবে। বৈদেশিক বাণিজ্যে আমেরিকা ভারতের সবচেয়ে বড় সহযোগী। ভারত বিশ্ববাজারে যত পণ্য বিক্রি করে তার সিংহভাগই আমেরিকা কেনে। আমেরিকায় ‘বন্ধু’ সরকার থাকলে স্বাভাবিকভাবেই এই বাণিজ্য বাড়তে পারে বলে ভারতের ধারণা ছিল। দ্বিতীয়ত, ভারত মনে করেছিল রিপাবলিকান ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরায় ‘চিরশত্রু’ পাকিস্তানকে কোণঠাসা করা যাবে।
দু’টির কোনওটিই পূরণ হয়নি। পাকিস্তানকে কোণঠাসা করা দূরের কথা, ট্রাম্পের দ্বিতীয় পর্বে আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রভূত উন্নতি ঘটেছে। পহেলগাঁওয়ে পাক জঙ্গিদের সন্ত্রাসবাদী হামলার পর তা আরও স্পষ্ট। পাকিস্তানের সন্ত্রাস রপ্তানি নীতির বিরুদ্ধে ভারত আমেরিকাকে এখনও পাশে পায়নি। বরং মার্কিন মদতে কূটনৈতিক মঞ্চে পাকিস্তানের গুরুত্ব আগের থেকে বেড়েছে। মক্কা চুক্তির মতো তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগের ক্ষেত্রে তারা অংশীদার হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংকটের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানকে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।
ভারত বিশ্ববাজারে যত পণ্য বিক্রি করে তার সিংহভাগই আমেরিকা কেনে। আমেরিকায় ‘বন্ধু’ সরকার থাকলে স্বাভাবিকভাবেই এই বাণিজ্য বাড়তে পারে বলে ভারতের ধারণা ছিল।
ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে একাধিকবার হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিশ্বকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টাও চালিয়েছেন। বার্তা পরিষ্কার, আমেরিকার কাছে পাকিস্তানের প্রয়োজন ফুরয়নি। ফলে দ্বিতীয় পর্বে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে আসায় বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তান চাপে পড়বে, ভারতের এমন প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার শাসনকালে ভারত বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে তো কোনও সুবিধা পায়নি, উলটে বার বার বিপাকে পড়ছে। ভারতের বাজার থেকে লগ্নি তুলতে শুরু করেছে বিদেশি সংস্থাগুলি। দু’-বছর ধরে টানাপোড়েন চললেও ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সুবাদে ভারত সেখান থেকে সস্তায় জ্বালানি তেল আমদানি করায় ট্রাম্পের শুল্কের কোপে পড়েছে। এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ভারতের অর্থনীতিকে গত দু’বছরে একাধিকবার আঘাত করেছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় পর্বে আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রভূত উন্নতি ঘটেছে। পহেলগাঁওয়ে পাক জঙ্গিদের সন্ত্রাসবাদী হামলার পর তা আরও স্পষ্ট।
ট্রাম্পের ভিসা-নীতি আমেরিকায় কর্মরত লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের জীবনযাত্রাকে অনিশ্চিত করেছে। সর্বশেষ ভারতের ৮টি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ট্রাম্পের রোষের মুখে পড়েছে। বিদেশ থেকে কর্মী এনে আমেরিকায় কাজ করাতে গ্রিন কার্ডের জন্য কর্মসূচি থেকে ট্রাম্প এই সংস্থাগুলিকে সাসপেন্ড করেছেন। এতে আমেরিকায় এই সংস্থাগুলিতে কর্মরত হাজার হাজার ভারতবাসীকে দেশে ফিরতে হবে। সংস্থাগুলিও বিপুল লোকসানের মুখে পড়বে। এটাও ভারতের অর্থনীতির পক্ষে একটি ধাক্কা। পরিস্থিতি যা তাতে ট্রাম্প জমানার দ্রুত অবসানের জন্য প্রার্থনা করা ছাড়া ভারতের সামনে বিকল্প কিছু নেই।
