Hashtagintro

বয়স মাত্র ১২, স্কুলে আচমকাই থেমে গেল হৃদ্‌স্পন্দন! শিশুদেরও হয় হার্ট অ্যাটাক?

সপ্তম শ্রেণি। সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুলেই ছিল ১২ বছরের মেয়েটি। আচমকাই বেঞ্চের উপর বসে পড়ে যায় সে। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। উত্তরপ্রদেশের কুশিনগরের এই ঘটনায় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘হার্ট অ্যাটাক’। বয়স মাত্র ১২! ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এত কম বয়সেও কি হার্ট অ্যাটাক হতে পারে?

উত্তর, হ্যাঁ। শিশুদেরও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তবে তা অত্যন্ত বিরল। আর বড়দের ক্ষেত্রে যে কারণে হার্ট অ্যাটাক হয়, শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত সেই কারণটি কাজ করে না।

বড়দের সঙ্গে তফাত কোথায়?
হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন হয় যখন হৃদ্‌যন্ত্রের কোনও অংশে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছতে পারে না। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে করোনারি ধমনিতে কোলেস্টেরল ও চর্বি জমে প্লাক তৈরি হওয়া এবং সেখানে রক্তের জমাট বাঁধা অন্যতম প্রধান কারণ।

শিশুদের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর ধরে এমন প্লাক জমে ধমনি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তাই কোনও শিশুর ক্ষেত্রে এমন গুরুতর কার্ডিয়াক ঘটনা ঘটলে জন্মগত সমস্যা, হৃদ্‌যন্ত্রের প্রদাহ, জিনগত অসুখ বা অন্য কোনও অন্তর্নিহিত কারণ খতিয়ে দেখা হয়।

12 year old girl heart attack school collapse cardiac emergency children
ছোটবেলাতেই হার্টের অসুখ! ছবি: সংগৃহীত

জন্মগত সমস্যাও হতে পারে কারণ
কিছু শিশুর জন্ম থেকেই করোনারি ধমনির গঠনে অস্বাভাবিকতা থাকতে পারে। এই ধমনিগুলিই হৃদ্‌যন্ত্রের পেশিতে রক্ত পৌঁছে দেয়। গঠনের সমস্যা থাকলে কখনও রক্তপ্রবাহে বাধা তৈরি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে হৃদ্‌যন্ত্রের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, হৃদ্‌স্পন্দনে সমস্যা বা আচমকা হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ মায়োকার্ডাইটিস, অর্থাৎ, হৃদ্‌যন্ত্রের পেশিতে প্রদাহ। অনেক সময় ভাইরাস-সহ বিভিন্ন সংক্রমণের পর এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দন, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্ষমতা দ্রুত কমে যেতে পারে।

এ ছাড়াও কিছু জিনগত হৃদ্‌স্পন্দনের সমস্যা, হৃদ্‌পেশির রোগ, কাওয়াসাকি ডিজিজ, রক্ত জমাট বাঁধার কিছু সমস্যা এবং বিরল কিছু গুরুতর কোলেস্টেরলজনিত অসুখ শিশুদের কার্ডিয়াক বিপদের কারণ হতে পারে।

12 year old girl heart attack school collapse cardiac emergency children
খেলতে খেলতে হাঁপিয়ে গেলে অবহেলা নয়। ছবি: সংগৃহীত

আচমকা অজ্ঞান মানেই হার্ট অ্যাটাক নয়
এখানেই রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। হার্ট অ্যাটাক আর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক নয়। হার্ট অ্যাটাকে হৃদ্‌যন্ত্রের পেশিতে রক্ত পৌঁছনোর সমস্যা হয়। আর কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হৃদ্‌যন্ত্র হঠাৎ রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দেয়। হার্ট অ্যাটাক থেকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে, কিন্তু সব কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ হার্ট অ্যাটাক নয়।

শিশু আচমকা মাটিতে পড়ে গেলে বা জ্ঞান হারালে তাই শুধু ‘হার্ট অ্যাটাক’ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অস্বাভাবিক হৃদ্‌স্পন্দন, জন্মগত হৃদ্‌রোগ বা অন্য কোনও গুরুতর শারীরিক সমস্যাও এর নেপথ্যে থাকতে পারে।

12 year old girl heart attack school collapse cardiac emergency children
জরুরি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ। ছবি: নিজস্ব

কোন লক্ষণগুলি অবহেলা নয়?
খেলাধুলা বা দৌড়নোর সময় বারবার বুকে ব্যথা, কারণ ছাড়াই অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, পরিশ্রমে অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, হৃদ্‌স্পন্দন খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে সাধারণ বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। পরিবারের কারও অল্প বয়সে বা কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই আচমকা মৃত্যুর ইতিহাস থাকলেও শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কুশিনগরের ঘটনা বিরল। কিন্তু একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেয়, শিশুর আচমকা পড়ে যাওয়াকে কখনও হালকা ভাবে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ নেপথ্যে কার্ডিয়াক সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসাই বাঁচাতে পারে প্রাণ।

Source: Sangbad Pratidin Lifestyle (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Lifestyle (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language