Hashtagintro

বর্গি হামলা থেকে বাঁচাতে মন্দিরে বসানো হয় কামান! রাঢ়বঙ্গের এই পুজোর আশ্চর্য ইতিহাস জানেন?

চিরাচরিত প্রথা মেনে প্রতিপদে কৃষ্ণসায়র থেকে ঘটোত্তলন করে সূচনা হল রাঢ়বঙ্গের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে দুর্গোৎসবের। রবিবার কৃষ্ণসায়রের চাঁদনি ঘাটে রূপোর ঘটে জল ভরে রথে চাপিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে আনা হয়। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় হাজার মানুষের ভিড় ছিল। অনুষ্ঠানে ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু ও মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসক শ্বেতা আগরওয়াল ও মন্দিরের পুরোহিত। ঘটোত্তলনের মধ্য দিয়েই দুর্গাপুজোর সূচনা হল বর্ধমানে।

কথিত আছে, ১৭০২ সালে মহারাজ কীর্তিচাঁদ সর্বমঙ্গলা মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যদিও এই নিয়েও মত পার্থক্য রয়েছে ইতিহাসবিদদের মধ্যে। তবে দেবীর মূর্তি তার আগেই উদ্ধার করেছিলেন চুনুরিরা। তারপর থেকে প্রতিবছর শারদোৎসবও ধূমধাম করে হয়ে আসছে এখানে।

এদিন ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে দেবীর নবরাত্রির পুজো শুরু হল। এখনও বর্ধমানের রাজ পরিবারের নামে সঙ্কল্প করা হয়। অষ্টমীর সন্ধিক্ষণে আগে তোপধ্বনী হত। কিন্তু আজ তা ইতিহাস। যদিও এর পিছনে রয়েছে এক করুণ কাহিনি। ১৯৯৭ সালের ৯ অক্টোবরের মধ্যরাত মহাষ্টমীর সন্ধিক্ষণের আগে কামানে ঠাসা হয়েছিল বারুদ। কামান দাগার পরেই ঘটে বিপত্তি। বিস্ফোরণ ঘটে যায় কামানে। এক মহিলা-সহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায়। জখম হয়েছিলেন বহু মানুষ। আর এই দুর্ঘটনার পর থেকেই পুলিশ-প্রশাসনের তরফে কামান দাগা নিষিদ্ধ করা হয়। তবে একটা সময় বর্ধমানের রাজাদের জমিদারী যতদূর বিস্তৃত ছিল ততদূরের জায়গাতেও তোপধ্বনী শুনে বা তোপধ্বনীর পর হাঁক শুনেই দেবীর কাছে সন্ধিপুজোর বলিদান করা হত। যদিও ঘটনার বেশ কয়েক বছর পর সেই বটতলাতেই কমানের ‘রেপ্লিকা’ স্থাপন করা হয়। আগে সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত ছাগ, মহিষ ও মেষ বলির প্রথা ছিল। সেই সবও এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রীতি মেনে এখন শুধুমাত্র ছাচিকমড়ো বলি দেওয়া হয়। নবমীতে হয় কুমারি পুজো। আর তা দেখতে ভিড় জমান বহু মানুষ। 

রূপোর ঘটে জল ভরে রথে চাপিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে আনা হয়।

কথিত আছে, ১৭০২ সালে মহারাজ কীর্তিচাঁদ সর্বমঙ্গলা মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যদিও এই নিয়েও মত পার্থক্য রয়েছে ইতিহাসবিদদের মধ্যে। তবে দেবীর মূর্তি তার আগেই উদ্ধার করেছিলেন চুনুরিরা। তারপর থেকে প্রতিবছর শারদোৎসবও ধূমধাম করে হয়ে আসছে এখানে। সন্ধিক্ষণে কামান দাগার রীতি প্রচলিত হয় তারও কিছু পরে।

কথিত আছে, ১৭৪১ সালে বর্গি হামলা থেকে সর্বমঙ্গলা মন্দিরকে রক্ষা করতে এই কামানটিকে বসানো হয়েছিল। ঢালাই লোহা দিয়ে সেটি তৈরি হয়েছিল। মন্দির প্রাঙ্গণের বাইরে বটতলায় ছিল সেই কামান। তাতে বারুদ ভরে তোপ দাগা হত। রাজ আমলের রীতি রাজন্য বা জমিদারি সবটাই এখন বিলোপ ঘটেছে। কিন্তু মন্দিরের ট্রাস্ট বোর্ড এখন রীতিতে কোনও ছেদ পড়তে দেননি। নিষ্ঠা ভরে মায়ের আরাধনা হয় সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language