গত মাসে দাম কমেছিল ১৩ টাকা। আর এমাসে রাতারাতি দাম বেড়ে গেল ২৫২ টাকা! বাংলাদেশের ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডারের মূল্য এভাবেই বাড়ল একলাফে অনেকটা। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই নয়া দাম লাগু হয়ে গিয়েছে। ফলে এখন ১ হাজার ৫৮৫ টাকার পরিবর্তে উপভোক্তাদের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়। এর মধ্যেই বিতর্ক দানা বেধেছে। অভিযোগ, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেই দাম বাড়ানো হচ্ছে।
বলা হচ্ছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দেওয়া তথ্য থেকেই জানা যাচ্ছে, এলপিজির আমদানিতে কোনও অস্বাভাবিকতা ছিল না। এমনকী, আগস্টের তুলনায় অনেক বেশি (প্রায় ১.৫৮ লাখ টন) এলপিজি আমদানি হয়েছিল। কিন্তু এরপরও বাজারে অপ্রতুল হয়ে পড়ে গ্যাস। যা ‘কৃত্রিম সংকটে’র দিকেই নির্দেশ করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। জানা গিয়েছে, এর আগে গত তিন সপ্তাহ ধরেই ১২ কেজি সিলিন্ডার উপভোক্তারা কিনছিলেন ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দাম দিয়ে। এবং আরও আশ্চর্যের, মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার পর থেকেই আবার বাজারে সরবরাহ বাড়াতে শুরু করেছে সংস্থাগুলি। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি থেকে কৃত্রিমভাবে ‘সংকট’ তৈরির দিকটিই ফুটে উঠছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন। সিলিন্ডার অপ্রতুল হওয়ায় এমনকী গৃহস্থদের অনেকেই সমস্যা পড়েছেন তীব্র ভাবে। কেননা ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজেই।
উল্লেখ্য, ইরান-আমেরিকা সংঘর্ষ শুরুর পর থেকেই এলপিজির দাম বেড়ে গিয়েছিল। গত এপ্রিলে ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ে ৩৮৭ টাকা। যদিও জুন-জুলাইয়ে ফের দাম কমে। কিন্তু এবার একলাফে দাম বাড়ল অনেকটাই। বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশের বাজারে নানা আকারেরই এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। যার দাম ছিল কেজি প্রতি ১৩২ টাকা ১২ পয়সা। এবার তা বেড়ে হল প্রতি কেজি ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা।
