Hashtagintro

বাঙালির প্রাকপুজো, কেন আনন্দ-ভাঁড়ারে টান?

বাঙালি বিচিত্র পথে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে এক জায়গায় বাঙালি আছে বাঙালিতেই। ‘পুজোর আগে’- এই শৌভিক শব্দবন্ধ থামিয়ে দেয় বাঙালিকে, এখনও। তার মনে জাগায় একদিকে উৎসবের আগমনি, স্মৃতির অবগাহন এবং অন্যদিকে যুগপৎ আনন্দ-বিষাদ, স্বাগত-বিদায়ের বিরোধাভাস। পুজোর আগে নীল আকাশের নিচে কাশফুলের দোলন যত সত্য, ততটাই সত্য বহু বাঙালির মরা গরিবি, অন্ধকার অভাব। পুজোর আগে সবথেকে প্রকট হয়ে ওঠে সমাজের এই অনস্বীকার্য অর্থনৈতিক বৈষম্য। তবু উৎসবের আমেজকেই বা অস্বীকার করি কী করে!

কেমন ছিল আগেকার ‘পুজোর আগে’? এই শব্দবন্ধ কত দূর বদলেছে ব্যঞ্জনায় তা ফুটিয়ে তুলতে বিনয় ঘোষ তাঁর ‘কালপেঁচার রচনা সংগ্রহ’-য় স্মরণ করেছেন ‘হুতোমপ্যাঁচার নকশা’-য় কালীপ্রসন্নর পুজোর সেই সময়ের পুজোর আগে কলকাতাকে: ষষ্ঠীতে বাবুদের বাড়ি অপূর্ব শোভা ধারণ করত। চাকরবাকর নতুন তকমা-উর্দি পরে ঘুরে বেড়াত। বাবুর বাড়ির দরজার দু’-দিকে পূর্ণকুন্ত ও আম্রসার দেওয়া হত, ঢুলিরা মধ্যে মধ্যে রৌশনচৌকি ও সানাইয়ের সঙ্গে সংগত করত, জামাই-ভাগ্নেরা নতুন জুতো জামা পরে ‘ফররা’ দিত।

পৌত্তলিকতার এই অনাচার দেখার বেদনা থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে পুজোর আগে বাঙালি ব্রাহ্ম দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর আবার জোড়াসাঁকো ছেড়ে প্রবাসী হতেন। স্বামীকে পাশে না পেয়ে একাকিত্ব যাপন করতেন স্ত্রী সারদাসুন্দরী দেবী। দুর্গাপুজোয় মায়ের নিঃসঙ্গ কষ্টের কথা জানিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কিন্তু তিনি নিজেও, স্ত্রী-ছেলেমেয়ে ছেড়ে, একা পদ্মায় ভাসতেন। পুজোর শহুরে থইথই থেকে দূরে, তাঁর মনের ভাবনা ছিল এইরকম: ‘ঘাটে দুটি একটি করে নৌকো লাঞ্চে- বিদেশ থেকে প্রবাসীরা পুজোর ছুটিতে পোঁটলাপুঁটুলি বাক্স ধামা বোঝাই করে নানা উপহারসামগ্রী নিয়ে সম্বোৎসর পরে বাড়ি ফিরে আস্তে। দেখলুম একটি বাবু ঘাটের কাছাকাছি নৌকো আস্তেই পুরোণো কাপড় বদলে একটি নুতন কোঁচানো ধুতি পরলে, জামার উপর শাদা রেসমের একখানি চায়নাকোট্ গায়ে দিলে, আর একখানি পাকানো চাদর বহু যত্নে কাঁধের উপর ঝুলিয়ে ছাতা ঘাড়ে করে গ্রামের অভিমুখে চল্ল।’

বিদেশ থেকে গ্রামে ফেরা ছেলেটির মনের ভাব, পরিবারের সঙ্গে মিলনের আগ্রহ, জুতসই শরৎ-প্রকৃতির বর্ণনা তুলে ধরেন রবীন্দ্রনাথ, ১৮৯১ সালের অক্টোবর, শিলাইদহে বসে। এখন ২০২৬। ১৩৫ বছরের ব্যবধান। বাঙালির সাজপোশাক, ফ্যাশন-রুচি, কাজের ক্ষেত্র, ভাবনার পরিসর, সমাজ-সংসারের চেহারা, সব বদলেছে। কিন্তু বদলায়নি পুজোর ছুটিতে প্রবাসী বাঙালির বাড়ি ফেরার আনন্দ। ১৩৫ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ শরতের আকাশে-বাতাসে, গাছে-গুল্মে, নদীতরঙ্গে যে অবিরাম সঘন কম্পন অনুভব করেছিলেন, তা-ও তো আছে এখনকার শরতে। যা হয়তো, তেমনভাবে আর নেই বাঙালির মনে, সেটি হল: শরৎ প্রকৃতির এই অবিরাম সঘন কম্পন অনুভব করার প্রবৃত্তি ও সময়।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language