Hashtagintro

বাড়ি বাড়ি মিটার, বসছে ট্রান্সফরমার, বদলের বাংলায় ‘বিদ্যুৎ চোর’ অপবাদ ঘুছল আন্ধুয়া গ্রামের!

আর নয় ‘চোর’ অপবাদ! অপবাদ ঘোচাতে এবার টাকা দিয়েই বিদ্যুৎ নিতে চায় গোটা গ্রাম। অবশেষে রাজ্যের খাতায় থাকা শেষ বিদ্যুৎবিহীন গ্রাম হিসেবে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকের আন্ধুয়া গ্রামে সরকারিভাবে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর কাজ শুরু হল। এর ফলে উৎসবের মরশুমেই ১২০০ পরিবারের ঘরে জ্বলবে আলো। আর তা বৈধভাবে। আর তাতে খুশি এলাকার মানুষজন। 

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী গার্গী দাস ঘোষ বলেন, “আমরা অবৈধ হুকিং বরদাস্ত করব না। টাকা দিয়ে বৈধ বিদ্যুৎ নিলে রাজস্ব বাড়বে, মানুষও সব সরকারি সুবিধা পাবে।”

১৯৮৬ সালে জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ হয় ২১০০ মেগাওয়াটের ফরাক্কা এনটিপিসি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। বর্তমানে এই তাপবিদ্যুতের ৬টি ইউনিট চালু রয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, এই তাপবিদ্যুত তৈরির সময় জমি দিয়েছিলেন তাঁদের পূর্বপুরুষরা। তার বিনিময়ে বেশ কিছু পরিবার চাকরি ও ক্ষতিপূরণ পান। তখন এলাকা আলোকিত করতে এনটিপিসি একাধিক পথবাতি এবং তার লাগায়। কিন্তু অভিযোগ, সেই তার থেকেই উত্তর ও মধ্যপাড়ার বাসিন্দারা হুকিং করে বাড়িতে এসি, ফ্রিজ চালাতে শুরু করেন। তাঁদের ধারণা জন্মায়, জমির বিনিময়ে আজীবন বিনামূল্যে বিদ্যুৎ তাঁদের প্রাপ্য! আর এভাবেই দিনের পর দিন চলতে থাকে। মাঝেমধ্যে এনটিপিসির তরফে ব্যবস্থা নিলেও কিন্তু অবস্থার বদল ঘটেনি। 

এনটিপিসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সংস্থা সরাসরি কোনও বাড়িতে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারে না, তাই মিটারও দেয়নি। ফলে বিদ্যুৎ দপ্তরের খাতায় আন্ধুয়া ‘বিদ্যুৎবিহীন’ই থেকে যায়। অথচ প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছিল। হুকিংয়ের চাপে দক্ষিণপাড়ায় লো ভোল্টেজ লেগে থাকত। এহেন পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার এবং এনটিপিসি যৌথভাবে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেয়। গ্রামে খুঁটি, তার ও ট্রান্সফরমার বসানোর কাজ শুরু করেছে। এনটিপিসি এই কাজে ১ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে, বাকি পরিকাঠামো করছে রাজ্য বিদ্যুৎ দপ্তর। ইতিমধ্যে বেশিরভাগ খুঁটি বসানো শেষ, দ্রুত ট্রান্সফরমার বসবে বলে পর্ষদ সূত্রে খবর।

বেনিয়াগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান জাকির হোসেন বলেন, “থ্রি-ফেজ লাইন ছিল, ট্রান্সফরমার ছিল না বলেই এই বিভ্রান্তি। এখন সবাই টাকা দিয়ে মিটার নিতে আবেদন করেছেন।” জানা গিয়েছে, শতাধিকের বেশি মানুষ এখন বৈধভাবে বিদ্যুৎ নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে বিজেপির মালদা দক্ষিণ সাংগঠনিক সম্পাদক অয়ন ঘোষ বলেন, “দীর্ঘদিনের সমস্যা মিটতে চলেছে। এনটিপিসি পানীয় জল ও স্বাস্থ্য শিবিরেরও আশ্বাস দিয়েছে।” এই প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী গার্গী দাস ঘোষ বলেন, “আমরা অবৈধ হুকিং বরদাস্ত করব না। টাকা দিয়ে বৈধ বিদ্যুৎ নিলে রাজস্ব বাড়বে, মানুষও সব সরকারি সুবিধা পাবে।”

Source: Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language