ধুমধাম করে বিয়ে! কিন্তু কন্যা যে নাবালিকা তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কেউ। সম্প্রতি সরকারি একটি হাসপাতালে সন্তান প্রসব হয় তাঁর। এরপরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আর তা জানাজানি হতেই একেবারে শ্রীঘরে স্বামী। নাবালিকাকে বিয়ে করার অপরাধে সদ্য বাবা হওয়া এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় (Saktigarh) থানার পুলিশ। ধৃত ওই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী এই বিষয়ে সরকার যে জিরো টলারেন্সের পথে হাঁটবে সরকার, তাও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। পকসো আইনে মামলা রুজু হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাকুড়া জেলার ইন্দাস থানা এলাকার এক নাবালিকাকে বিয়ে করে শক্তিগড় থানা এলাকার ওই যুবক। গর্ভবতীও হয়ে পড়ে ওই নাবালিকা। গত রবিবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সন্তান প্রসব হয়। এরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি জানিয়ে বর্ধমান থানায় অভিযোগ জানায়। বর্ধমান থানা জিরো এফআইআর করে তা শক্তিগড় থানায় পাঠায়। শক্তিগড় থানার পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্তে নামে। শুরু হয় ঘটনার তদন্ত। এরপরেই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আজ, মঙ্গলবার ধৃত ওই যুবককে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়।
বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী এই বিষয়ে সরকার যে জিরো টলারেন্সের পথে হাঁটবে সরকার, তাও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। পকসো আইনে মামলা রুজু হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপরেই এই বিষয়ে ময়দানে নেমেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে ধরপাকড়। শুধু তাই নয়, নাবালিকা বিয়ে রুখতে রাজ্য সরকারের তরফে সচেতনতার প্রচারও শুরু হয়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, তৃণমূল জমানায় নাবালিকা বিয়ে এবং সন্তান প্রসব নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্টে। রাজ্যের মধ্যে নাবালিকা বিবাহ ও সন্তান প্রসবের নিরিখে প্রথম স্থানে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। পূর্ব বর্ধমান জেলা রয়েছে তৃতীয় স্থানে। রিপোর্ট সামনে আসার পর পূর্ব বর্ধমান জেলায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।
