দলের বিধায়কের বিরুদ্ধেই এবার আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি বিজেপির এক নেতার। প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে ফৌজদারি মামলা করবেন। এই মর্মে কৌস্তভ বাগচীকে মানহানির নোটিস পাঠালেন বারাকপুর ২ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় যাদব। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে কৌস্তভ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ যুবনেতা বিশাল জয়সওয়ালের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তোলেন তিনি।
সঞ্জয়ের দাবি, উত্তম দাসের বাড়িতে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে যাওয়ায় তাঁকে ‘সমাজবিরোধী’ ও ‘ক্রিমিনাল’ বলেছেন বিধায়ক। স্থানীয় হাসপাতাল ও নামী রেস্তরাঁ-সহ একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তোলাবাজির অভিযোগও তুলেছেন তিনি। বিশালের গাড়িচালকের অস্ত্র-সহ গ্রেপ্তারি এবং মণীশ শুক্লা খুনের অভিযুক্তদের সঙ্গে কৌস্তভের যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সঞ্জয়। প্রাণনাশের আশঙ্কায় পুলিশ কমিশনার ও দলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছেও চিঠি দিয়েছেন তিনি।
দুর্গাপুজোর পর এই বিবাদের সূত্রপাত। বারাকপুরের তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাসের সঙ্গে একই মঞ্চে অর্জুন সিং-সহ বিজেপি নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন কৌস্তভ। উত্তমকে দলে নেওয়া হলে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এর পরদিনই বিজেপির স্থানীয় নেতারা মিষ্টি নিয়ে উত্তমের বাড়িতে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে যান। সেই ঘটনা থেকেই দলের পুরনো কর্মীদের সঙ্গে বিধায়কের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
কৌস্তভের বিরুদ্ধে পুরনো কর্মীদের কোণঠাসা করা, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলমালের অভিযোগ তুলেছেন মণ্ডল সভানেত্রী ও প্রবীণ নেতা অহীন্দ্রনাথ বসু। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে পালটা কৌস্তভের কটাক্ষ, “মঞ্চে ঠোঁট নাড়ছেন একজন, পিছনে চিত্রনাট্য সাজাচ্ছেন অন্য কেউ। তিনি সামনে এসে বলুন, তারপর উত্তর দেব। দল সবটা জানে। যিনি নোটিশ পাঠিয়েছেন, তিনি আমার সামনে দাঁড়িয়ে দেখে দেখে দু’লাইন পড়ে দেখান।”
