বাঙালির বাস পৃথিবীর যেখানেই হোক না কেন, প্রতি শরতেই তাদের মন দুর্গাপুজোর টানে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। আর তাই নিজের বাসস্থানের কাছেই দুর্গাপুজোর আয়োজন করার প্রচেষ্টা থাকে তাদের (Durga Puja 2026)। বিদেশ-বিভুঁইয়ে থাকলেও ছবিটা বদলায় না।
সেই একই ছবি জার্মানিতেও। বার্লিনে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির অন্যতম বৃহৎ উৎসব ‘বার্লিন সর্বজনীন দুর্গোৎসব ২০২৬’। ‘ইগনাইট ই ভি’-র উদ্যোগে তা আয়োজিত হতে চলেছে এবারও। বার্লিনের ‘শ্রী গণেশ টেম্পল, হ্যাসেনহাইড ১০৬, ১০৯৬৭ বার্লিনে’ ছয় দিনব্যাপী এই দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

এই বছর উৎসবের উদ্বোধন করবেন জার্মানিতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রী অজিত গুপ্তা। এই দুর্গোৎসবের ছ’দিনের প্রত্যেক দিনই থাকবে পূজার উপাচার ও নানাবিধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় বাঙালিরা শামিল হতে পারবেন এমন মিলনমেলার আবহে। এই বিশেষত্বই বার্লিন সর্বজনীন দুর্গোৎসবকে অন্যান্য বহু প্রবাসী দুর্গাপুজোর থেকে আলাদা করে তোলে।
এখানে প্রতি সন্ধ্যায় ভারতীয় ও জার্মান শিল্পীদের অংশগ্রহণে জমে উঠবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলি, দুই সংস্কৃতির মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় হয়ে উঠবে এতে। এ বছরের অন্যতম আকর্ষণ ১৮ অক্টোবর, অষ্টমীর সন্ধ্যায় জনপ্রিয় বাংলা রক ব্যান্ড ‘লক্ষ্মীছাড়া’-র সরাসরি পরিবেশনা। জার্মানিতে প্রথমবারের জন্য ঘটতে চলেছে এমনটা।
জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির সীমারেখা পেরিয়ে এই উৎসব সকলের জন্য উন্মুক্ত, অর্থাৎ এই উৎসবে যোগ দিতে গেলে যে আপনাকে প্রবাসী বাঙালি হতেই হবে, এমনটা নয়। দুর্গোৎসব সমিতির প্রত্যাশা রয়েছে যে এবারের আয়োজনে ১০,০০০-এরও বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে। পুজোর প্রতিটি দিনই থাকছে বাঙালি ভূরিভোজের ব্যবস্থাও। তরিবৎ করে সে খাবার উপভোগ করে করতে, বাড়ির থেকে লক্ষ মাইলের দূরত্ব যেন ভুলতেই বসবে প্রবাসী বাঙালিরা।

জার্মান অলাভজনক সংগঠন ‘ইগনাইট ই ভি’-র মূল লক্ষ্য বিদেশের মাটিতে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এবং বার্লিনে বসবাসকারী বাঙালি ও ভারতীয় সম্প্রদায়কে একত্রিত করা। ২০২১ সালে প্রথমবার দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন তাঁরা। সে বছর আনুমানিক ২ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে সেখানে। এই সংখ্যাই ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজারে। এই উৎসব ইতিমধ্যেই স্থানীয় জার্মান সমাজের মধ্যেও দুর্গাপুজো সম্পর্কে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। এই অনন্য উদযাপনে অংশ নিলে দেখতে পাওয়া যায় বার্লিনের মাটিতে বাঙালির দুর্গাপুজোর আবেগ এবং ভারতীয় ও জার্মান সংস্কৃতির এক অভিনব মেলবন্ধন।
