বিধায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলতেই ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতির আঙুল ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি। শুধু তাই নয় বাড়ি ঘেরাও করে শিক্ষা দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির মণ্ডল সভাপতি। অন্যদিকে বিজেপির মহিলা মোর্চার এক কর্মীর হুঁশিয়ারি, বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে এলাকাছাড়া করা হবে। অন্যদিকে, প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন দুর্গাপুরের ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়। যদিও বিধায়কের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
ধ্রুবজ্যোতি দুর্গাপুরের গোপালমাঠ এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় সমস্যা ও কর্মসংস্থানের দাবিতে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তিনি। এলাকায় কাজের দাবিতে বিক্ষোভ, অনশন এবং কারখানায় শ্রমিকদের শোষণের অভিযোগ তুলে তাঁকে একাধিকবার আন্দোলনে নামতে দেখা গিয়েছে। সেই ধ্রুবজ্যোতিই সম্প্রতি দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘড়ুইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, বিধায়কের পরিবারের সদস্যদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বজনপোষণ হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন। যদিও ধ্রুবজ্যোতির তোলা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছিলেন বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘড়ুই। অভিযোগ পালটা অভিযোগের সেই পর্ব এবার পৌঁছে গেল প্রকাশ্য হুঁশিয়ারিতে।
দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপির দুই নম্বর মণ্ডল সভাপতি নীলমাধব চক্রবর্তী ধ্রুবজ্যোতির অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,“কে হরিদাস পাল ধ্রুবজ্যোতি মুখার্জি? ১ নম্বর মণ্ডল সভাপতিকে অনুরোধ করছি ধ্রুবজ্যোতির বাড়ি ঘেরাও করে তাঁকে অভিযোগের প্রমাণ দিতে বাধ্য করা হোক। বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘড়ুইয়ের মেয়ে চাকরি করছেন এবং তাঁর জামাইয়ের চাকরির ক্ষেত্রেও বিধায়কের ভূমিকা রয়েছে, ধ্রুবজ্যোতিকে এই অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে। যতক্ষণ না তিনি প্রমাণ দিতে পারছেন, ততক্ষণ তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে। ধ্রুবজ্যোতি আমার পরিবার এবং বিধায়কের পরিবারের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন। সেই আঙুল আমরা ভেঙে দেব। ধ্রুবজ্যোতি আমার নিজের মণ্ডল এলাকার বাসিন্দা হলে নিজেই বাড়ি ঘেরাও করে তাঁকে শিক্ষা দিতাম। ওই এলাকার মণ্ডল সভাপতি সুমিত বাউরিকে ধ্রুবজ্যোতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
বিজেপি নেতার এই মন্তব্যের পর পালটা সরব হন ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “বিধায়কের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জানানোর পর থেকেই স্থানীয় বিজেপি নেতারা আমার বাড়ি ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বিধায়কের স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। তারপরেই বিজেপির স্থানীয় নেতারা আমার বাড়ি ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। আমাকে মেরে দেবেন? আমার পরিবারকে মেরে দেবেন? কিন্তু আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেই যাব।”