বিমানেই আটক ককরোচ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কারা। শুরুর আগেই কড়া হাতে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে লাগাম প্রশাসনের। শনিবার সকালে বিমানে দিল্লি পৌঁছন অভিজিৎরা। যন্তর মন্তরে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু তার আগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে বিমানেই আটক করা হয় ‘ককরোচ’ নেতাদের।
এদিকে, আন্দোলন নিয়ে কিছুতেই দমতে নারাজ বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের সাফ কথা, “স্বৈরাচারীরা ভয় পেয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফা দিতেই হবে।” অন্যদিকে, যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে তোপ দেগেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, ‘আরশোলা’দের নেপথ্যে রয়েছে বিদেশি শক্তি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন বলেন, “আজ দেশে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও গুরুতর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। এমন এক দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা চলছে যেখানে ১৪০ কোটি মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে। কারা এসব করছে?” তিনি আরও বলেন, “এর নেপথ্যে রয়েছে দু’টি নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠী। একটি কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ‘ইন্ডি’ জোট। অন্যটি আম আদমি পার্টি (আপ)-র প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সহযোগীরা অর্থাৎ ‘ককরোচ’রা। আমি উভয় গোষ্ঠীকেই স্পষ্ট জানাতে চাই যে, ভারতের জনগণ আপনাদের আসল উদ্দেশ্য ধরে ফেলেছে।”
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘আরশোলা’রা। জনপথ-কর্তব্যপথ ক্রসিংয়ের চার কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে সব এলাকাতেই ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে ইন্টারনেট পরিষেবা। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে করা তাঁদের আবেদনে সদর্থক সাড়া মিলেছে। সাময়িক ভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১০ অক্টোবর রাত দশটা পর্যন্ত ওই পরিষেবা বন্ধ রাখা হচ্ছে। ড্রোন দিয়ে চলছে নজরদারি।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে যে, বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই যন্তর মন্তরে কর্মসূচি করছে ‘ককরোচ’রা। মধ্য দিল্লির বহু এলাকায় ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’র ১৬৩ ধারা বলবৎ রয়েছে। পুলিশ সতর্ক করে দিয়েছে, এই বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শনিবারের বিক্ষোভে যাতে কোনওরকম সহিংসতার প্রকাশ না পায় তা নিশ্চিত করতেই এহেন সতর্কতা বলে সূত্রের দাবি। অন্তত ২৬ হাজার পুলিশ এবং আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে শহরজুড়ে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নয়াদিল্লি রেল স্টেশনে ট্রেন ঢোকা। একই দৃশ্য হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনেও। ফলে অন্যান্য বহু ট্রেনের মতোই বাতিল হয়েছে কলকাতা থেকে দিল্লিগামী জোড়া রাজধানী এক্সপ্রেস।
