খনিগর্ভ থেকে হু হু করে বেরিয়ে আসছে গ্যাস। বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে ঝাঁঝালো গন্ধ। কোথাও ধোঁয়া, কোথাও আবার ঢুকে পড়েছে জল। আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন এলাকার বাসিন্দারা। একদিকে মিথেন গ্যাসের আতঙ্ক, অন্যদিকে খনিগর্ভে হু হু করে জল ঢুকে পড়া। ভয়ে কার্যত ত্রস্ত অণ্ডালের সিঁদুলি কোলিয়ারি এলাকা। এই পরিস্থিতিতে খনির গভীরে আটকে পড়া দুই শ্রমিককে কোনওরকমে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে খনি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে সিঁদুলি কোলিয়ারির ৩ নম্বর পিটের কাছে প্রথমে ধোঁয়া ও গ্যাস বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে ভিড় জমে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন কোলিয়ারির এজেন্ট ও ম্যানেজার। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে আরও ভয়াবহ চিত্র সামনে আসে। খনির ভিতর থেকে ধোঁয়া, জল ও গ্যাস বের হতে শুরু করে। সেই সময় খনির গভীরে আটকে ছিলেন দুই খনি শ্রমিক।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ ঠাকুর বলেন, “সকালে আমরা জানতে পারি। চা খেতে যাওয়ার সময় রাস্তায় দেখি ৩ নম্বর পিটের কাছে প্রচুর লোকজনের ভিড় জমেছে। সেখানে গিয়ে দেখি, প্রচুর ধোঁয়া ও বাতাস বের হচ্ছে। সবাই বলাবলি করছিলেন, গ্যাস বেরোচ্ছে। খবর পেয়ে কোলিয়ারির এজেন্ট ও ম্যানেজার আসেন। তাঁরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। এরপর পাখা বন্ধ করা হলে সেখান থেকেও ধোঁয়া, জল ও গ্যাস বের হতে শুরু করে। উপর থেকেই জলের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। সেই সময় দুই খনি শ্রমিক নিচে ছিলেন। কোনওরকমে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। উপরে আসার পর দু’জনেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। তাই তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।” খনি এজেন্ট পঙ্কজ কুমার বর্মা বলেন,”একটি ঘটনা ঘটেছে। দু’জন আটকেছিলেন। তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাদের নজর রয়েছে গোটা এলাকায়। কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
