সূর্যবংশীর ‘বৈভবে’ মুগ্ধ আসমুদ্রহিমাচল। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তার পরিণতবোধে মুগ্ধ করেছে সবাইকে। এই বাঁহাতি তারকার ব্যাটে আইপিএলে ঝড় উঠেছে। দেশের জার্সি গায়েও দ্যুতি ছড়িয়েছে সে। তার বয়স যখন ১৩, রাজস্থান রয়্যালস ১.১ কোটি টাকায় কিনে হইচই ফেলে দিয়েছিল। তারপর বাকিটা ইতিহাস। এবার বৈভবের ছায়া দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের নিলামেও। সেদেশে এবার ১৮ বছরের অলরাউন্ডারকে নিয়ে সাড়া পড়ে গিয়েছে। দেড় কোটির উপর দর উঠেছে তার।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই তারকা অলরাউন্ডারের নাম জেসন রাওলস। আগামী বছরের এসএ২০ নিলামে সবচেয়ে বেশি দাম পেয়েছেন তিনি। তাঁকে দলে নিতে ২৯ লক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা খরচ করল জোবার্গ সুপার কিংস। তাঁকে পেতে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়েছিল এমআই কেপ টাউনও। বাঁহাতি এই ক্রিকেটার বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক। নিলামে ছিলেন কায়রন পোলার্ড, ট্রেন্ট বোল্ট ও ফাফ ডু’প্লেসির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা। তাঁদের উপস্থিতিতেও লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছেন এই তরুণ।

ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কমিশনার গ্রেম স্মিথ মনে করেন, তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতি আস্থা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিভা খুঁজে বার করার পাশাপাশি তাদের যথাযথ সুযোগ দেওয়াটাও জরুরি। স্মিথের কথায়, “তরুণদের সামনে তুলে ধরার মানসিকতাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈভবকে আমরা আইপিএলে সকলেই দেখেছি। তখনই বোঝা যায়, বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রতিভার উপর আস্থা রাখার প্রবণতা বাড়ছে।” এবার কোয়েনা মাফাকা, ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের মতো তরুণরাও ভালো দাম পেয়েছে। স্মিথের মতে, অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেটারদের এই উত্থান দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিভা খুঁজে আনার নেপথ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও কোচদের নিরন্তর পরিশ্রম রয়েছে। নিলাম থেকে উঠে আসা এই ধরনের গল্প নতুন প্রতিভাদের অনুপ্রাণিত করবে। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করবে।” তবে কম বয়সে প্রতিভার ঝলক দেখালেই যে বড় মঞ্চে সাফল্য নিশ্চিত, তা মনে করেন না এমআই কেপ টাউনের হেডকোচ রবিন পিটারসন। প্রাক্তন ইংরেজ ক্রিকেটারের কথায়, “বৈভবের মতো ক্রিকেটাররা তরুণদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে, কম বয়সেই কি কেউ এই পর্যায়ের ক্রিকেট সামলাতে পারে? তবে শুধু প্রতিভা দেখেই কাউকে দলে খেলিয়ে দেওয়া যায় না। তার বিকাশের পথে বাধা তৈরি হচ্ছে কি না, আত্মবিশ্বাসে আঘাত লাগছে কি না, সেটাও দেখতে হয়।”
