কোভিড টিকার ভুয়ো শংসাপত্র নেওয়ার ঘটনায় শাস্তির মুখে। ২০২২ সালে আর্সেনালে খেলার সময় এই শংসাপত্র নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় তাঁকে দেড় লক্ষ সুইস ফ্রাঁ, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে সুইস প্রশাসন। তবে এই জরিমানা আপাতত স্থগিত থাকবে। আগামী দু’বছর মধ্যে নতুন কোনও অপরাধে জড়িয়ে না পড়লে জরিমানার অর্থ তাঁকে দিতে হবে না। ইতিমধ্যেই আদালতের খরচ মিটিয়ে দিয়েছেন সুইৎজারল্যান্ড ফুটবল দলের অধিনায়ক গ্রানিত জাকা।
বৃহস্পতিবার সোশাল মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়ে শাস্তির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সান্ডারল্যান্ডের অধিনায়ক। নিজের দায় এড়িয়ে যাননি। জাকার কথায়, ‘কয়েক সপ্তাহ আগে বলেছিলাম, নিজের সিদ্ধান্তের দায় নেব। আমি এখনও সেই অবস্থানেই অনড়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি কৌঁসুলির দফতরে বিস্তারিত জানানোর পরে এবার সিদ্ধান্ত এসেছে। আমি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি। সমস্ত দায় স্বীকার করছি।’ এই কঠিন সময়ে যাঁরা তাঁর পাশে থেকেছেন, তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সুইস তারকা।
২০২২ সাল। কোভিডের টিকা নিয়ে গভীর সন্দেহ ছিল জাকার। সেই কারণেই তিনি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে আগে জানিয়েছিলেন। গত সেপ্টেম্বরে বিষয়টি সামনে আসার পর নিজের ভুলও স্বীকার করেন তিনি। কিন্তু ভুল স্বীকার করার পরেও বিতর্ক থেকে রেহাই পাননি এই মিডফিল্ডার। জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বাধিক ১৫২টি ম্যাচ খেলার নজির জাকার নামে। তবে বিতর্কের জেরে উয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ পর্যায়ের পরপর চারটি ম্যাচে তাঁকে দলে রাখা হয়নি। জাকাকে ছাড়াই চারটি ম্যাচেই জিতেছে সুইৎজারল্যান্ড।
প্রশ্ন হল, জাতীয় দলে কবে ফিরবেন জাকা? সুইস ফুটবল সংস্থার সভাপতি পিটার ন্যাবেল জানিয়েছেন, দলের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই আপাতত তাঁকে বাইরে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “গ্রানিত নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। শাস্তি মেনে নিয়েছেন। আমরা তাঁর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তবে আমরা মনে করি, এই শিবিরটা ওকে ছাড়াই শেষ করা দলের পক্ষে ভালো।” তবে এখানেই যে জাকার আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ইতি পড়ছে, তেমন কিছু বলেননি ন্যাবেল। আন্তর্জাতিক ম্যাচের বিরতি শেষ হলে জাকার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
