ভোটচুরি নিয়ে নিত্যদিন আন্দোলন করে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। কখনও জেন জি’র মন পেতে ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ করছেন। কখনও সুপ্রিম কোর্ট অভিযান, কখনও রামলীলা ময়দানে জনসভা। বিরোধী শিবির দাবি করছে, দেশজুড়ে মোদি বিরোধী হাওয়া বইছে। কিন্তু কোথায় কী? ভোটের ফলে সেসবের কোনও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অন্তত ৪ রাজ্যের বিধান পরিষদের নির্বাচনে স্পষ্ট ইঙ্গিত, কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানোর দূর দূর তক কোনও ইঙ্গিত নেই। উলটে দলের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত যে কর্নাটক, সেখানেও ভরাডুবি হয়েছে হাত শিবিরের।
কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার। এই চার রাজ্যের ২৮টি বিধান পরিষদ আসনের ভোট হয়েছিল দিন দুই আগে। এই বিধান পরিষদ নির্বাচনগুলিতে সীমিত কিছু ভোটার অংশ নেন। মূলত শিক্ষক ও স্নাতক ভোটাররা এই নির্বাচনে অংশ নেন। সেই নির্বাচনে চার রাজ্যের ২৮টি আসনের মধ্যে খাতাও খুলতে পারেনি কংগ্রেস। বিশেষ করে নিজেদের দখলে থাকা কর্নাটকে বড় ধাক্কা খেয়েছে হাত শিবির। সে রাজ্যে চার রাজ্যের চারটি আসনেই জিতেছে এনডিএ জোট। রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেসকে ফিরতে হয়েছে শূন্য হাতে। ডিকে শিবকুমারের খাসতালুক হিসাবে পরিচিত বেঙ্গালুরু টিচার্স কেন্দ্রেও জিতেছে বিজেপির জোটসঙ্গী জেডিএস। সেখানে কংগ্রেসের পাঁচবারের বিধান পরিষদ সদস্য পুট্টান্নাকে ৯০৮ ভোটে পরাজিত করেছেন জেডি (এস)-এর এ পি রঙ্গনাথ। তাঁর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১০ হাজার ৮১০। পুট্টান্না পেয়েছেন ৯ হাজার ৯০২টি ভোট। কর্নাটকের অন্য ৩ আসনেও জিতেছে বিজেপি।
উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদের ১১ আসনে সার্বিকভাবে কিছুটা এগিয়ে বিজেপি। তবে সমানে সমানে টক্কর দিচ্ছে সমাজবাদী পার্টিও। তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীর শিক্ষক সিটেও পরাজিত হয়েছে বিজেপি। এ পর্যন্ত ৬ আসনের ফল বেরিয়েছে যার মধ্যে দু’টি আসনে জিতেছে সমাজবাদী পার্টি। ৪ আসনে বিজেপি। বাকি পাঁচ আসনের মধ্যে ৩টিতে এগিয়ে সপা। বিজেপি ২টি আসনে এগিয়ে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ফল হতে পারে ৬-৫। যা বিজেপির জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে। বিহারে খাতা খুলে ফেলেছে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টিও। বিধানসভায় যে আরজেডি ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছিল, তাঁরাও পাটনার গুরুত্বপূর্ণ আসন জিতেছে। সেখানে কংগ্রেস শূন্য। হাত শিবিরের আগেরবারের জেতা আসনটিই এবার গিয়েছে পিকের দলের দখলে। একই ছবি মহারাষ্ট্রেও। সেখানে শরদ পওয়ারের দল খাতা খুললেও শূন্য কংগ্রেস।
যদিও হাত শিবিরের দাবি, এই এমএলসি নির্বাচনগুলি স্থানীয় স্তরের প্রার্থীদের যোগাযোগ, জনপ্রিয়তার উপর নির্ভর করে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাসক দল এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলির প্রাধান্য থাকে। এই ভোটের ফলাফল মোটেই সার্বিক জনমতের প্রতিফলন নয়। কিন্তু কর্নাটকের ফলাফলের কোনও ব্যাখ্যা নেই কংগ্রেসের কাছে। এক্ষেত্রে ভোট হয়েছিল ব্যালট পেপারে। ফলে ইভিএমে ভোটচুরির অভিযোগটাও ঠিক খাটে না।
