আবহবিদদের অঙ্ক মিলিয়ে মঙ্গলবার ভোররাতেই অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। ল্যান্ডফলের সময়ে হাওয়ার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার। ওঙ্গোলের কাছে ‘মুরাসু’ স্থলভাগে আছড়ে পড়ে ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ। ঘণ্টাদুয়েক চলে ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া। এর প্রভাবে অন্ধ্র ও তামিলনাড়ুর উপকূল অঞ্চলে শুরু হয়েছে তুমুল ঝড়বৃষ্টি। তবে বঙ্গবাসীকে আশ্বস্ত করে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এরাজ্যে মুরাসুর তেমন প্রভাব নেই। যদিও সকাল থেকে কলকাতা ও আশপাশের এলাকার আকাশ মেঘলা, বাতাসে গুমোট ভাব। নভেম্বরের শুরুতে এমন আবহাওয়া কিছুটা ব্যতিক্রম।
#WATCH | Ongole, Andhra Pradesh: Heavy rainfall and strong gale winds trigger rough sea conditions, causing damage to thatched houses and uprooting trees in the region as cyclonic storm Murasu makes landfall near Kothapatnam. https://t.co/NehA1kxSEu
— ANI (@ANI) November 3, 2026
হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, রাত ১টা থেকে ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শুরু হয় মুরাসুর। সেসময় ঘূর্ণিঝড়ের বহিরাংশ অর্থাৎ মেঘ-প্রাচীর স্পাইরাল ব্যান্ডটি স্থলভাগ ছুঁয়েছিল। এরপর সাড়ে তিনটে নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টির ‘আই’ বা চোখ ভূমিতে আছড়ে পড়ে। ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যভাগ ওঙ্গোলের খুব কাছ দিয়ে ‘মুরাসু’র ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়। দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করে ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি। সেসময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। কোথাও কোথাও সেই বেগ ১২০ কিলোমিটারও পৌঁছে যায়।
‘মুরাসু’র প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ অংশ সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু ঘরবাড়ি তছনছ হয়েছে। তামিলনাড়ুর উত্তর অংশেও ভালো প্রভাব পড়েছে ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর। পশ্চিম গোদাবরী, গুন্টুর, কৃষ্ণা, বাপটালা, প্রকাশম, নেল্লোর-সহ একাধিক জেলায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এর প্রভাবে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত নামতে পারে বলে পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের। অন্ধ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা দলের প্রধান প্রখর জৈন জানিয়েছেন, এমনিতে খুব বড় সতর্কতার কিছু নেই। বিদ্যুৎ পরিষেবাও আপাতত স্বাভাবিক। তবে বিপদ এড়াতে জনগণকে তিনি বাড়িত ভিতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে ‘মুরাসু’র প্রায় কোনও প্রভাব নেই। মৎস্যজীবীদেরও সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে জারি হয়নি কোনও নিষেধাজ্ঞা।
